প্রসেনজিৎ চৌধুরী: দু’শো বছরে ঐতিহ্যবাহী সশস্ত্র বাহিনির দখলে বহু সম্মান রয়েছে, তেমনই রক্তাক্ত এক বিদ্রোহের কলঙ্কের ইতিহাসের অংশীদার। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে তৈরি ‘রামগড় লোকাল ব্যাটেলিয়ন’ থেকে পাকিস্তান আমলের ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) হয়ে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এই ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায় ‘বিদ্রোহ’।

এক যুগ আগে ২০০৯ সালে ভয়ঙ্কর মুহূর্তগুলোর টানা কয়েকদিন পার করে নামটাই বদলে গিয়েছে বিডিআর বাহিনির। এটি এখন পরিচিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) নামে। তবে নাম বদলালেও দায়িত্ব সেই এক- সীমান্ত পাহারা।

পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ১৯৭১ সালের রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীনতা লাভ করা বাংলাদেশ বেশ কয়েকবার সেনা অভ্যুত্থানের সাক্ষী। সেনার গুলিতে মারা গিয়েছেন দেশটির ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেনা শাসনের দমচাপা পরিস্থিতি দেখেছে বাংলাদেশ। তবে সর্বাধিক নারকীয় মুহূর্ত ছিল দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনির বিদ্রোহ-‘পিলখানা গণহত্যা’ বা ‘বিডিআর বিদ্রোহ’

বিডিআর বিদ্রোহের এক যুগ:

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দফতর ঢাকার ধানমন্ডির ‘পিলখানা’- তে নিয়ম মাফিক সাপ্তাহিক জমায়েত ছিল। সেখানে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ সহ বাহিনির শীর্ষ কর্তারা। সেই সময় শুরু হয় বিদ্রোহ। বাহিনির কয়েকশ সদস্য সশস্ত্র অভ্যুত্থান করে বন্দি বানায় কমান্ডারদের। শুরু হয় বিশ্ব জোড়া আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ। ঢাকা মহানগর জুড়ে তীব্র আতঙ্ক।

ঢাকায় বিডিআর সদর দফতরে বিদ্রোহ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের অন্যান্য বিডিআর ছাউনিতেও বিদ্রোহীদের অভিযান চলে। তবে ঢাকার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা গুলি করে মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ, তাঁর স্ত্রী সহ ৫৭ জনকে খুন করে। মোট ৭৪ জনের মৃত্যু হয়।

বিডিআর সদর দফতর থেকে গুলির শব্দ আসছে। মূল ফটকে বিদ্রোহী বাহিনির কড়া পাহারা। বাইরে সেনা বাহিনি নেমেছে বিদ্রোহ দমনে বিরাট ট্যাংক বহর নিয়ে। বিদ্রোহী বিডিআর ও বাংলাদেশ সেনার মধ্যে যে কোনও সময়ে সংঘর্ষ বাধতে পারে। বিরাট পিলখানা এলাকা ঘিরে সেনা ও ভিতরে চলছে বিদ্রোহীদের নির্দেশে গণহত্যা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিদ্রোহী বিডিআর বাহিনির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। শুরু হয় দড়ি টানাটানি পর্ব। কিন্তু ভিতরের অবস্থা কী?

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি টানা চারদিন ধরে বিশ্ব উদ্বেগে, ঢাকায় আতঙ্ক, সবমিলে চলছিল রুদ্ধশ্বাস প্রহর গোনার পালা। অবশেষে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সায় দেয় বিডিআর বিদ্রোহীরা। অস্ত্র নামানোর পর পিলখানা তে ঢোকে সেনা। এর পরেই ছড়ায় ভয়াবহ সব ছবি।

বিডিআর সদর দফতর জুড়ে মৃতদেহ। গলা পচা দেহ ছড়িয়ে আছে। বাহিনির কমান্ডারদের নৃশংস ভাবে মারার চিহ্ন দেখে শিহরিত হয় আন্তর্জাতিক মহল। বাংলাদেশ জুড়ে চলছিল আতঙ্কের পালা।

কেন এই বিদ্রোহ ?

বিডিআর বাহিনির কমান্ডারদের কর্তৃত্বমূলক ব্যবহীরের অবসান, রেশন ও বেতন বৈষম্য দূর করা সহ বেশ কিছু দাবিতে সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। এতে বিডিআর এর প্রায় ১৫,০০০ সদস্য মিলে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খুন করে৷ তবে বিদ্রোহের নেপথ্য কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে। মামলার রায়ে বিদ্রোহের কারণ সম্পর্কে বিডিআর সদস্যদের ক্ষোভের কথা উল্লেখ রয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারী চিহ্নিত হয়নি।

শতাধিক বিদ্রোহীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা:

বিডিআর বিদ্রোহের জন্য দায়ের করা মামলায় মোট পাঁচ হাজার ৯২৬ জন সদস্যের বিভিন্ন মেয়াদে (চার মাস থেকে সাত বছর) কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শেনানো হয়েছে।

শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি মামলার ইতিহাসে ‘পিলখানা হত্যা মামলা’ তথা ‘বিডিআর বিদ্রোহ’ এক নজির৷ এই বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা (ফৌজদারি আদালতে)।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।