হায়দরাবাদ: বড়সড় ভাঙন তেলেঙ্গানা কংগ্রেসে৷ বৃহস্পতিবার রাজ্য কংগ্রেসের ১২ জন বিধায়ক স্পীকার পি শ্রীনিবাস রেড্ডির সঙ্গে কথা বলেন৷ কংগ্রেসের পরিষদীয় দলকে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার আরজি জানান তাঁরা৷

উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার ১১৯ আসনের তেলেঙ্গানা বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ১৮টে নেমে আসে৷ এদিনই তেলেঙ্গানা ইউনিট প্রধান উত্তম কুমার রেড্ডি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসেন৷ এই উত্তম কুমার রেড্ডি নালগোণ্ডা বিধানসভা আসন থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন৷

আরও পড়ুন : তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক, উল্লসিত লালমাটির গেরুয়া শিবির

বৃহস্পতিবার গোটা দিন ধরে ঘটনার ঘনঘটা চলল তেলেঙ্গানার রাজনৈতিক অলিন্দে৷ মার্চ মাসেই ১১ জম কংগ্রেস বিধায়ক টিআরএসে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন৷ রাজ্যের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা গান্দ্রা ভেঙ্কট রামান রেড্ডি বলেন এই ১২ জন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন৷ তাদের দাবি টিআরএসের উন্নয়নে সামিল হবেন তারা৷ একইসঙ্গে বিধানসভার অধ্যক্ষকে তাঁরা অনুরোধ করেছেন যাতে সিএলপির সঙ্গে টিআরএস মিশিয়ে দেওয়া হয়৷

রেড্ডি বলেন, এই ১২ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে৷ এরা প্রত্যেকেই মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরাসরি কাজ করতে চাইছেন৷ ১৮ থেকে ১২ জন বিধায়ক বেরিয়ে গেলে সংখ্যালঘিষ্ঠ হয়ে পড়ছে কংগ্রেস৷ উল্লেখ্য ১২ জন বিধায়ক কংগ্রেস পরিষদীয় দলের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ৷ ফলে ক্ষমতা হারিয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়ল কংগ্রেস, বলাই যায়৷ যদি অধ্যক্ষ এই ১২ জনের আবেদন গ্রহণ করেন, তবে তেলেঙ্গানায় মাত্র ৬ জন বিধায়ক নিয়ে বিরোধী দলের মর্যাদা হারাতে চলেছে কংগ্রেস৷

উল্লেখ্য, হায়দরাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ও এআইএমআইএম দলের প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াসির নেতৃত্বে রয়েছেন ৭জন বিধায়ক৷ অন্যদিকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা এক৷ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি৷ তাঁদের ঝুলিতে রয়েছে ৮৮টি আসন৷

আরও পড়ুন : কাশ্মীর কোনও দিনই মুসলিমদের উপহার দেওয়া হবে না: শিবসেনা

তবে শুধু বৃহস্পতিবারই নয়, মার্চ মাসেও তেলেঙ্গানার একাধিক কংগ্রেস নেতা দল ছাড়েন৷ এর মধ্যে ছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জে চিত্তরঞ্জন দাস। লোকসভা ভোটের মুখে প্রবীণ নেতার দলত্যাগে খুব স্বাভাভিকভাবেই চাপে ছিল কংগ্রেস। চিত্তরঞ্জন বাবু তেলেঙ্গানা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির ওবিসি সেলের চেয়ারম্যান ছিলেন।

দলের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ ছিল, “দলের মধ্যে কোনও সামাজিক সাম্যতা নেই। কংগ্রেস পার্টিতে প্রবীণ নেতাদের সম্মান দেওয়া হচ্ছে না।” একই দিনে দল ছেড়ে ছিলেন আরেক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আনন্দ ভাস্কর রাপলু। তেলেঙ্গানা থেকে তিনি কংগ্রেসের টিকিটেই রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর কাছে পাঠিয়ে দেন নিজের ইস্তফাপত্র।