পুরী: সুপার সাইক্লোন ফণীর দাপটে অন্ধকারে ডুবে ছিল পুরীর জগন্নাথ মন্দির৷ তার ১২ দিন পর অবশেষে আলো জ্বলল জগন্নাথধামে৷ বুধবার রাতে মন্দিরে বিদ্যুত সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়৷ মন্দির ফের আলোকিত হওয়ায় খুশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক৷ ট্যুইট করে নিজেই সেই খবর জানান৷

ফণী আছড়ে পড়ার পর বিশাল জগন্নাথ মন্দিরের বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ শুধু মন্দির নয়, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দিন রাত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলে৷ তাদের নিরলস চেষ্টাতে ফের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে মন্দিরে৷ ট্যুইটে সেই সব কর্মীদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক৷ লেখেন, মন্দিরে বিদ্যুত ফিরে আসায় খুব খুশি৷ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ওডিশায় আসা কর্মীদের দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল৷ তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ৷ তবে এই কাজ করতে গিয়ে মঙ্গরাজ রাও নামে এক বিদ্যুত কর্মীর মৃত্যুর হয়৷ নবীন পট্টনায়েক মঙ্গরাজের মৃত্যুর দুঃখপ্রকাশ করেন৷

এখন শুধু পুরীর মন্দিরে বিদ্যুত সংযোগের কাজ শেষ হয়েছে৷ গোটা জেলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে৷ পুরীর জেলাশাসক বলওয়ন্ত সিং জানান, পর্যায়ক্রমে শহরের বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পূর্ণ হবে৷ তিনি আশাবাদী আগামী পাঁচদিনের মধ্যে সেই কাজ শেষ করা যাবে৷

আরও পড়ুন: মমতাকে সাদ্দাম হুসেনের সঙ্গে তুলনা করলেন বলি অভিনেতা

এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বেশ কিছু জরুরি ঘোষণা করেন৷ জানান, যতক্ষণ না রাজ্যের বিদ্যুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে ততদিন বিদ্যুতহীন পরিবারগুলিকে ২.৫ লিটার কেরোসিন তেল দেওয়া হবে৷ তাদের বিনা মূল্যে ১০ লক্ষ মোমবাতি বিতরণ করা হবে৷ আগামী দু’মাস স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হবে৷ যাদের রেশন কার্ড নেই সেই সব পরিবারের জন্য ৫০ কেজি চাল দেওয়া হবে৷ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস পুরীকে ফের বিশ্বের দরবারে হেরিটেজ শহর হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হবে৷

পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্বেও ওড়িশাকে একেবারে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে ঘূর্ণীঝড় ফণী। প্রচুর ঘর-বাড়ি গাছপালা, কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। দামি দামি হোটেলের এখন কঙ্কালসার চেহারা। এমনকি এয়ারপোর্টেও ধ্বংসলীলা চালিয়েছে ফণী। বিধ্বংসী ঘূণিঝড়ের প্রভাবে ওডিশার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও টেলিকম নেটওয়ার্ক প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছে। বহু জায়গাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানো দ্রুত সম্ভব হয়নি এখনও। বিশেষত ভুবনেশ্বর ও কটকের বিস্তীর্ণ অংশ ডুবে যায় অন্ধকারে।