তিমিরকান্তি পতি (বাঁকুড়া): লোকসভা ভোটের দলের বিপর্যয়ের পর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে বাঁকুড়ার ঘর গোছাতে শুরু করলো তৃণমূল। শুক্রবার জেলা তৃণমূল ভবনে ইন্দাস ব্লক এলাকা থেকে ৭০০ পরিবার থেকে ১১০০ জন বিজেপি ছেড়ে শাসক দলে যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন দলের বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর দুই সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শুভাশীষ বটব্যাল, শ্যামল সাঁতরা সহ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

যদিও দল বদল বিজেপি-তৃণমূল চাপানোতর শুরু হয়েছে। এমনকি এই ঘটনায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ইন্দাস ব্লক এলাকায় বিধায়ক গুরুপদ মেটের সাথে প্রাক্তন সভাপতি রবিউল হোসেনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এদিন তৃণমূলের একাংশ স্পষ্টতই দাবী করেন ইন্দাস এলাকার তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি রবিউল হোসেনের কাজে অখুশী দলীয় কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে রবিউল হোসেনকে তার পদ থেকে সরাতেই পুরাণো কর্মীরা দলে ফিরছেন। এমনকি ফের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আগে শেখ নুর আলি আলো নামে এক কর্মীকে রবিউল গোষ্ঠীর লোকজন মারধোর করেছে বলেও অভিযোগ। আক্রান্ত ঐ কর্মীও সংবাদমাধ্যমের সামনে একই অভিযোগ করেন।

এদিন ফের তৃণমূলে যোগ দিয়ে রবিউল মণ্ডল বলেন, রবিউল হোসেনের দূর্ণীতির কারণেই আমরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। দলে লাগামহীন দূর্ণীতি করতেন ঐ নেতা বলেও তিনি দাবী করেন। দল তাকে ঐ পদ থেকে সরাতেই তারা ফের তৃণমূলে ফিরলেন বলে তিনি জানান।

দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা গোষ্ঠী দ্বন্দের কথা অস্বীকার করে বলেন, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরাই তাদের কর্মীদের উপর আক্রমণ করেছে। প্রশাসন এবিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। বিজেপির দিনে রাতে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। তাই ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ বিজেপি ছেড়ে তাদের দলে যোগ দিলেন বলে তিনি দাবী করেন।

বিজেপির পক্ষ থেকে দলবদলের ঘটনাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। দলের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এর দাবী তৃণমূলের লোকেরাই তৃণমূলের ফিরছে। এই ঘটনা ‘অদ্ভূত’ বলেও তিনি দাবী করেন।