স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: বরযাত্রীদের ফাটানো বাজির আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল ১১টি মাটির বাড়ি। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাঁকুড়ার হিড়বাঁধের মশিয়াড়া গ্রামে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় কয়েকজন অল্পবিস্তর আহত হয়েছে। মারা গিয়েছে বেশ কয়েকটি পোষা পাখি৷ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন জনা ষাটেক মানুষ৷

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই দিন গভীর রাতে মশিয়াড়ার রায়পাড়াতে একটি বাড়িতে প্রথম আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে তা আশেপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামে হরিনাম সংকীর্তণ হওয়ায় বেশীরভাগ মানুষই সেখানে ছিলেন। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় দমকলকেও। তবে দমকল আসার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় ১১টি মাটির বাড়ি।

আরও পড়ুন: মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী চিটফান্ড এজেন্ট

শুক্রবার সকালে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেল পুরো এলাকায় শ্মশানের নিস্তব্ধতা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের পোড়া বাড়ি থেকে জিনিসপত্র বের করে আনতে দেখা গিয়েছে। উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছেন আশেপাশের প্রতিবেশীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রদ্যোত রায়, কল্পনা রায় বলেন, ‘‘ওই সময় আমরা কেউই বাড়িতে ছিলাম না। গ্রামের আটচালায় হরিনাম সংকীর্তন হচ্ছিল। সেখানে ছিলাম। কি করে হঠাৎ এমন হল কিছুই বুঝতে পারছি না। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে বাড়ির ভেতর থেকে কোন কিছুই বের করে আনা যায়নি৷ আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে পোষা কয়েকটি হাঁসেরও।’’

আরও পড়ুন: হোলির মটকা অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে হীড়বাঁধ থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গ্রামের রায় পাড়াতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। বরযাত্রীরা খুব বাজি ফাটাচ্ছিল৷ সেই বাজি থেকে মাটির বাড়িগুলিতে আগুন লেগেছে বলে অনুমান। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাতেই বরযাত্রীরা গা ঢাকা দেয়।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি সংগঠন। তাদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রামে আসেন হীড়বাঁধ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোনালী মহান্তি ও রানীবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি। তাঁরা এলাকা ঘুরে দেখেন৷ পাশাপাশি পঞ্চায়েত সমিতির তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে বাড়ি ঘর তৈরির সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বালি বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় মৃত্যু ছাত্রের

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।