প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি : করোনা ভাইরাস বা কোভিড ১৯, সারা পৃথিবীর কাছে এখন আতঙ্কের দ্বিতীয় নাম। আর এই লড়াইয়ে একমাত্র সামনের সারির সৈনিকদের মধ্যে নাম আসে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের। খাওয়া ঘুমের পরোয়া না করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার দু’জন আবাসিক ডাক্তার সহ প্রায় ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হলেন। দিল্লি এইমসে এই ঘটনা ঘটেছে।

এইমসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে, ২০৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী সহ ২জন ফ্যাকাল্টি, ১০জন আবাসিক চিকিৎসক, ২০জন নার্স, ৯জন প্রযুক্তিবিদ, ৫জন মেস কর্মী, ৫জন হাসপাতালের পরিচারক, ৩৪ জন সাফাই কর্মী এবং ৬৯ জন নিরাপত্তা কর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এইমসের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ ডি কে শর্মা বলেছেন, দেড়শ-রও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী সুস্থ হয়ে ফিরেও এসেছেন এবং কাজে যোগদান করেছেন। গত তিন দিনে আবাসিক চিকিৎসক, নার্স, ল্যাবরেটরি স্টাফ, টেকনিশিয়ান, স্যানিটেশন স্টাফ এবং সুরক্ষা প্রহরীসহ প্রায় ৬৪ জনেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মীর রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।

ডাঃ শর্মা বলেন, “আমরা ইনস্টিটিউটে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সব ধরণের সতর্কতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিচ্ছি। যে কোনও স্বাস্থ্যকর্মীর রিপোর্ট পজেটিভ আসামাত্র আমরা তৎক্ষণাত তাকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করি”।

সূত্রের খবর, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনা পজেটিভ আসে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৩০ জন সংক্রমিত হন এবং বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

ডাঃ শর্মা বলেন,” আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী এবং হাসপাতালের আনুষাঙ্গিক পরীক্ষা কর্মীরা উভয়ই কোভিড এবং নন-কোভিড এলাকা থেকে এসেছেন। ইঞ্জিনিয়ারিং, ল্যাবরেটরিজ, অফিস, ক্যান্টিন, অপারেশন থিয়েটার এবং ওয়ার্ডের অন্যান্য সব বিভাগের কর্মচারীরাও এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। গত রবিবার এইমসের এক স্যানিটেশন সুপারভাইজার, যার কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছিল তিনি মারা যান এবং গত সপ্তাহে এইমস ক্যান্টিনের একজন মেস শ্রমিক মারা গিয়েছিলেন।

এদিকে,গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হলেন ৭৯৬৪ জন। যার ফলে দেশে বর্তমানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭৬৩।

পাশপাশি ২৪ ঘন্টায় ২৬৫ জনের মৃত্যু হওয়ায় বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। বর্তমানে দেশজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৭১ -এ। দেশে মোট আক্রান্তের মধ্যে বর্তমানে আক্টিভ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬ হাজার ৪২২ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৮২ হাজার ৩৭০ জন।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।