নয়াদিল্লি: করফাঁকির স্বর্গরাজ্যে বলে পরিচিত হলেও এবার সেই কালিমা ঘোচাতে নড়েচড়ে উঠেছে সুইৎজারল্যান্ড সরকার৷ ফলে সে দেশের ব্যাংকগুলি গত সপ্তাহে বেশ কয়েকজন ভারতীয় আমানতকারীর কাছ থেকে তাদের বিশদ তথ্য জানতে চেয়েছে।

২১ মে এক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুইস সরকার জানতে চেয়েছেন, অন্তত ১১ জন ভারতীয় সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে ৷ তাদের নামের আদ্যক্ষর, জন্মতারিখ এবং নাগরিকত্ব ইত্যাদি সহ সুইস ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিশদ তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তিদের পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। ভারত সরকারকে তথ্য না দিতে চাইলে ওই ব্যক্তিরা আবেদন করার এটাই শেষ সুযোগ পাবেন জানিয়ে ওই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

পড়ুন: মোদীর পাশে ঠেকে সর্বকালের সেরা পয়েন্টে শেয়ার সূচক

গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে তাঁদের ওই আপীল করতে হবে। গেজেটে মাত্র দু’জনের পুরো নাম দেওয়া হয়েছে। এঁরা হলেন, কৃষ্ণা ভগবান রামচাঁদ (জন্ম ১৯৪৯ সালের মে মাসে) এবং কল্পেশ হর্ষদ কিনারীওয়ালা (জন্ম ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে)। বাকিদের শুধুমাত্র নামের আদ্যক্ষরই উল্লেখ রয়েছে। সেই সঙ্গে জন্মের তারিখ। এর আগে মার্চ মাসেও এই রকম ভাবে ২৫ জন ভারতীয়র কাছ থেকে তাঁদের সুইস ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছিল সুইস সরকার।

বিদেশে লুকিয়ে রাখা কালো টাকার সন্ধান পেতে সুইৎজারল্যান্ড সরকারের সঙ্গে একটি তথ্য আদান-প্রদানের চুক্তি করেছে মোদী সরকার। সেই জন্য সুইস ব্যাংকগুলিতে রাখা ভারতীয়দের আমানতকারীদের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে বিশদ তথ্য ভারত সরকারকে পাঠাবে সুইৎজারল্যান্ড সরকার। সেই মতো জানুয়ারি মাস থেকে ওই সব তথ্য ভারত সরকারকে দিতে শুরু করে সুইৎজারল্যান্ড সরকার। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তি যদি ভারতে করফাঁকি দিতে টাকা সুইস ব্যাংক সরিয়ে রাখেন তখন তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করবে কেন্দ্রীয় সরকার ও আয়কর দফতর৷