ফাইল ছবি

জয়পুর: মর্মান্তিক ঘটনা মরুরাজ্যে। কমপক্ষে ১১ জন পাক হিন্দু শরণার্থীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে যোধপুরে। সকলেই একই পরিবারের সদস্য। এমনটাই পুলিশ সূত্রে খবর।

২০১২ সালে পাকিস্তান থেকে ভারতে আসে পরিবারটি। ভারতে আসার সময় থেকেই তাঁরা যোধপুরের লোদটা গ্রামের দেচু থানা এলাকায় থাকত। একই পরিবারের এমন ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। একসঙ্গে একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুতে আতঙ্কিত এলাকাবাসী। কীভাবে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, একই পরিবারের ১১ জন সদস্য, যাদের মধ্যে চারজন মহিলা, দু’জন পুরুষ এবং পাঁচজন শিশু ছিল। তাঁরা প্রত্যেকেই বিষ বা বিষাক্ত কিছু খেয়েই সম্ভবত আত্মঘাতী হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের। আর তা শনিবার রাতেই একসঙ্গে খেয়েই ওই ১১ জন আত্মঘাতী হয়েছেন বলে খবর।

রবিবার সকালে ওই ১১ জনকে মৃত অবস্থায় প্রথমে দেখতে পান স্থানীয় মানুষজন। যা দেখে রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রাই ঘটনার খবর দেয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। আসে বিশেষ তদন্তকারী দলও। কীভাবে এই ঘটনা তার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কোনও ফাউল প্লে রয়েছে কিনা তা দেখতে শুরু করে বিশেষ তদন্তকারী দল। আর তা দেখতে গিয়েই পরিবারের একজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন ওই ব্যাক্তি।

জীবিত ব্যক্তি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। পুলিশ সুপার রাহুল ভরত বলেন, ‘জীবিত ব্যক্তি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। মনে হয় রাতেই কিছু হয়েছে।’

পুলিশ সপারের কথায়, খামারের বাইরে রাসায়নিক মিলেছে। সবাই মিলে কোনও রাসায়নিক খেয়ে থাকতে পারেন। ‘মৃতদের কারও শরীরেই কোনও ক্ষত দেখা যায়নি। তবে সব ক’টি দেহই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেসন্সিক বিশেষজ্ঞরাও মৃত্যুর কারণ খুঁজছেন। যে খামার থেকে মৃতদের উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে পুলিশ কুকুর এনেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে তেমন কিছু নজরে পরেনি পুলিশের।’

এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, বাইরে থেকে পরিবারের এই তরুণী সদস্যই নাকি অন্যদের বিষ খাইয়ে খুন করেছেন। তারপর তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। ফলে খুন নাকি নিছকই গ্যাসের প্রভাবে মৃত্যু, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তার রিপোর্ট পেলেই সবটা স্পষ্ট হবে বলে আশা পুলিশের।

জানা গিয়েছে, ওই পরিবারটি পাকিস্তানি হিন্দু যারা ভিল কমিউনিটির অংশ। তাঁরা লোদটা গ্রামের টিউবওয়েলে কাজ করত এবং নিকটবর্তী একটি কুড়েঘরে বাস করতেন।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা