স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: পতিতাপল্লী থেকে ১১ জনকে গ্রেফতার করল মহিষাদল থানা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ধৃত সকলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা থেকে ফিরছিল। সভা থেকে ফেরার পথেই তারা পতিতাপল্লীতে গিয়েছিল। সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

সোমবার রাজ্যের দুই জায়াগায় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধান মুখ নরেন্দ্র মোদী। প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় হলদিয়ায় এবং পরেরটি হয় ঝাড়গ্রামে। ধৃতেরা সকলেই হলদিয়ায় যাওয়া বিজেপি কর্মী বলে দাবি করেছে পুলিশ।

মহিষাদল থানার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে যে ওই দিন রাতের দিকে কাপাসবেরিয়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। কাপাসবেরিয়া এলাকায় পতিতাপল্লী রয়েছে। বিভিন্ন সময়েই সেই সকল এলাকায় অভিযান চালিয়ে থাকে পুলিশ। সোমবার তেমনই অভিযান চালানো হয়েছিল। এবং সেই অভিযানেই ১১ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। যারা সকলেই হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় গিয়েছিলেন।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা

পুলিশের এক কর্মী জানিয়েছেন যে কাপাসবেরিয়ার পতিতাপল্লী এলাকায় একাধিক গাড়ি দেখেই প্রথমে সন্দেহ হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল যে বাইরে থেকে আসা কোনও পর্যতকের দল হয়তো পতিতাপল্লীতে এসেছে। মোদীর সভা থেকে ফেরার পথে বিজেপি কর্মীরা পতিতাপল্লীতে যাবে তা কল্পনার অতীত ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ। ওই বিজেপি কর্মীদের তিনটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মোদীর সভা থেকেই কাপাসবেরিয়ার পতিতাপল্লীতে যাওয়ার কথা ধৃতেরা স্বীকার করে নিয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক জনসভা হলে কলকাতার সোনাগাছির মতো যৌনপল্লীর ব্যবসা বৃদ্ধি পায়। দুর্বার মহিলা সমিতি সেই কথা জানিয়েছিল মাস খানে আগে। সেই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় Kolkata24x7 নিউজ পোর্টালে। রাজনৈতিক জনসমাগম নিষিদ্ধপল্লীর ব্যবসা বৃদ্ধি আজকের নতুন কোনও ঘটনা নয়। শহরের নিষিদ্ধপল্লী শুরুর দিনের পাতা ঘাঁটলেও মিলবে একইরকম ছবি। ২০০ বছর আগের ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই শহরে ইংরেজরা যখন নিজেদের পসার জমিয়ে বসে তখন তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছিল অনেক সৈন্য সামন্ত। অনেকেই মাসের পর মাস বাড়ি যেতে পারতেন না।

নারী সঙ্গ পেতে তারা হাজির হতেন উত্তর কলকাতার এই যৌন পল্লীতেই। সেই সময় বিধবা গৃহ বধূদের জোর করে এখানে নিয়ে এসে চলত নির্যাতন। ২০০ বছর পেরিয়েও সেই ছবি বদলায়নি। রাজনৈতিক মিটিং মিছিলের পরের ভিড়টা আছড়ে পড়ে এখানে। ব্যবসা বাড়লেও মানবিক দিক থেকে যা সুখকর নয়। সোনাগাছি সূত্রে জানা যায়, শহরে যেকোনোও মিটিং মিছিল হলেই যৌনকর্মীদের আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।