গ্লাসগো, স্কটল্যান্ড: ১০৭ বছর বয়সে মৃত্যুর পর নিজের চোখের কর্নিয়া দান করে শিরনামে উঠে এলেন এক মহিলা৷ তিনিই হলেন স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি বয়সে অঙ্গ দানকারী৷ যদিও মহিলার পরিচয় জানা যায়নি৷ ঘটনাটি প্রথম সামনে আনেন স্কটল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্ল্যান্ট সদস্য লেসলি হোগান৷ ‘উই নিড এভরিবডি’ নামে একটি টিভি প্রোগ্রামে তিনি ঘটনাটি সর্বসমক্ষে আনেন৷

তিনি আরও জানিয়েছেন, অঙ্গদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আনার জন্য এই প্রথম সচেতনতা মূলক কোনও কর্মসূচী শুরু করেছে তাদের প্রতিষ্ঠান৷ যার মাধ্যমে চেষ্টা চালানো হচ্ছে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মধ্যে অঙ্গদান সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা৷ দেশের প্রবীণতম কর্নিয়াদাতার বিষয়টি তিনি সেই কারণেই জানিয়েছেন বলেও তাঁর দাবি৷ প্রসঙ্গত গিনিশ ওয়াল্ড রেকর্ডে প্রবীণতম অঙ্গদাতা সম্পর্কে কোনও শ্রেণিবিভাগ নেই৷ ফলে এই অঙ্গদাতা মহিলা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণতম অঙ্গ দানকারী কিনা সেই সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই স্কটল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের কাছে৷ জানা গবেষকরা জানাচ্ছে অঙ্গদানের সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হল কোনও ব্যক্তি প্রবীণ বয়সেও অন্য কোনও নবিনের জীবন বাঁচাতে পারে তাঁর দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের মাধ্যমে৷ এছাড়া দেখা গিয়েছে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ২০ বছর পরেও সেই অঙ্গ সঠিক ভাবে কাজ করছে৷

জানা গিয়েছে আজ থেকে একশো বছর আগে থেকে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন সার্জারি শুরু হয়েছে৷ ১৯০৫ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রথম কর্নিয়া প্রতিস্থাপন হয়৷ কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা৷ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে শুধুমাত্র স্কটল্যান্ডেই ৫৪০ জন ব্যক্তি চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে৷