আগরতলা: সরকারকে দিতেই হবে চাকরির নিশ্চয়তা। এই দাবি নিয়ে বুধবার দুপুরের পর থেকেই উত্তপ্ত আগরতলা। বেলা গড়িয়ে গেলেও অবস্থানে অনড় ত্রিপুরার ১০,৩২৩ কর্মচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকারা। শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথের সঙ্গে দেখা করবেনই, এই মনোভাবে মহাকরণ ও সচিবালয়ের সামনে শুরু হয়েছে তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি।

আগরতলায় সচিবালয়ের প্রবেশপথ ঘেরাও করে রেখেছেন আন্দোলনকারীদের ১০,৩২৩ সংগঠনের শিক্ষক শিক্ষিকারা। অভিযোগ, সরকার কিছু শুনতেই চাইছে না। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধী সিপিআইএমের হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী বাদল চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকারের প্রবল সমালোচনা করেন। আন্দোলনে নামা কর্মচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে রাজ্যে ফের বাম সরকার গড়ার আহ্বান জানান। বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকারের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি ভুয়ো বলেই চিহ্নিত করছেন রাজ্যের ১০৩২৩ সংগঠনের সদস্যরা। আন্দোলনকারীদের মহাকরণ অভিযান ঘিরে বুধবার দফায় দফায় আগরতলা সরগরম হয়।

বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থা করার দাবি নিয়ে শিক্ষকদের মহাকরণ অভিযানে পুলিশের লাঠি চালায়। নিরাপত্তা বলয়ের নির্দিষ্ট সীমা পেরনোর আগেই সেই মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। কয়েকজন শিক্ষিকা লাঠির আঘাতে রাস্তার উপরেই ছিটকে পড়েন। তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই ছবি সোশ্য়াল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে। তাঁরা নির্বিচারে লাঠি চালানোর অভিযোগ করেছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের ১০,৩২৩ শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি স্থায়িত্ব নিয়ে বাম আমলের শেষের দিকে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। বিজেপি নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাদের সরকার তৈরি হলে সমস্যা সমাধান হবে। সরকার আসার পর আড়াই বছর কেটেছে, কিছুই হয়নি।

সচিবালয় ঘেরাও কর্মচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের, লাঠি ও জলকামান চার্জ
সচিবালয় ঘেরাও কর্মচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের, লাঠি ও জলকামান চার্জ

গত ৩১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ত্রিপুরার ১০,৩২৩ জন শিক্ষককে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। বহিষ্কৃত শিক্ষকরা সরকারের কাছে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছেন। বিরোধী দল সিপিআইএম ও কংগ্রেস বারবার অভিযোগ তুলছে রাজ্যেে কর্মসংস্থান সূচক নিম্নমুখী।

পাশাপাশি, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রবল সরব বিরোধী নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।

সচিবালয় ঘেরাও কর্মচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের, লাঠি ও জলকামান চার্জ
সচিবালয় ঘেরাও কর্মচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের, লাঠি ও জলকামান চার্জ

তাঁর অভিযোগ, ত্রিপুরাবাসীকে গত লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই সন্ত্রাসের ভয় দেখিয়েছে বিজেপি। নিকম্মার সরকার বলেও বর্তমান শাসকদের কটাক্ষ করেছেন মানিকবাবু। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব জানিয়েছেন, ত্রিপুরায় কর্মসংস্থানের গতি বেড়েছে। স্বনিযুক্তি প্রকল্প, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিমাণ উর্ধমুখী। বিরোধীদের আন্দোলন নিছকই বিরোধিতার জন্য বলেই তাঁর দাবি।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।