স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি নেই, তাই পরীক্ষার আগে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩ জন পড়ুয়াকে জানিয়ে দেওয়া হল পরীক্ষায় বসতে পারছেন না তাঁরা। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি, সিবিসিএস ব্যবস্থায় বর্তমানে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি থাকলেই পরীক্ষায় বসা যায়। তাহলে তাদের ক্ষেত্রে নিয়মটা অন্য হবে কেন! এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা কোনও জবাব দেননি বলেও অভিযোগ পড়ুয়াদের। তাই বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জমায়েত হয়ে আন্দোলনে রাস্তা ধরার দিকেই এগোনোর বিষয়ে আলচনা করবেন বলে ডাক দিলেন প্রেসিডেন্সির পড়ুয়ারা।

এদিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জমায়েত হয়ে তাঁরা আলোচনা করবেন নিজেদের সমস্যা। উচ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কোন সদুত্তর না মেলায় জমায়েতে আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকেই এগোবেন বলে জানিয়েছেন অহন-পূষনরা। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অফ এক্সামিনারের কাছেও যাবেন বলে জানান তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভেন সেমেস্টারের (দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ সেমেস্তার) পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৭ মে। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় বসতে না পারার নামের তালিকা জানান হয় গত ১৮ মে। প্রত্যেক বর্ষের পড়ুয়া মিলিয়েই ১০৩ জন পড়ুয়া রয়েছেন ওই তালিকায়। ৭৭ জন প্রথম বর্ষের বাকিরা দ্বিতীয় ও তৃতীয়। তাদের দাবি, বর্তমানে সিবিসিএস(চয়েস বেস ক্রেডিট সিস্টেম) ব্যবস্থায় ৬০% উপস্থিতি থাকলেই পরীক্ষায় বসা যায়। যদি ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তেমন চুক্তি নাও থেকে থাকে (যেহেতু উচ্চ কর্তৃপক্ষ জানাতে চায় নি) তবে কেন তা কার্যকর করবেন না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে ৬০% নম্বর থাকলে মেডিকেল সার্টিফিকেট ইস্যু করা যায়, কিন্তু সেক্ষেত্রেও বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীদের মেডিকেল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হয় নি। কন্ট্রোলার নীলাঞ্জনবাবুর কাছে গেলে তিনি বলেন বিভাগীয় প্রধান এব্যপারে শেষ কথা। তিনি কিছু করতে পারবেন না।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফর্মিং আর্টস বিভাগের প্রথম বর্ষের (দ্বিতীয় সেমেস্তার) ছাত্র পূষন দাশগুপ্ত জানান, তিনি এই পরিস্থিতির শিকার। বিভাগে ১১ জন ছাত্র আছে। তাদের মধ্যে ৬ জনকেই পরীক্ষা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। এই ৬ জনই মেডিকেল দিতে যায়। তাদের মধ্যে ১ জনের ৬০% এরও কম উপস্থিতি ছিল তাই সেটা গ্রহণ করা হয় নি। অন্য একজনকে ওয়ার্নিং দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতিগত ভাবে তাকে মেডিকেল দিতে হয়। বাকি ৪ জন যথা সময়ে জমা দেয়। একজনের মেডিকেল গ্রহণ করা হয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় প্রধান নীলাদ্রি রায় বলেন,’ আগে থেকেই বলা ছিল মেডিক্যাল দিলে হবে না।’ কিন্তু কেন মেডিকেল দেওয়া যাবে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আলোচনায় যেতে চাই না। কথা বলতে রাজি নই। উচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে যাও। যা খুশি কর।’

পূষণ জানিয়েছেন তাঁর ৭২ শতাংশ উপস্থিতি রয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশের জন্য পরীক্ষা দিতে পারছেন না। অন্যদিকে, কন্ট্রোলারের কাছে গেলে তিনি বলেন, এটা ডিপার্টমেনটাল ইস্যু। বিভাগীয় প্রধানের কথাই শেষ কথা।

অহন কর্মকার নামে অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্র (university’s indipendence consolaration’s activist)জানান, গতকাল এই বিষয়ে জিবি-র বৈঠক হয়। ছাত্রছাত্রীরা সমস্যা তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়, শিক্ষকরা ঠিকমতো অ্যাটেনড্যান্স দেন না, ছাত্ররা কলেজের প্রতিনিধিত্ব করতে অন্য কলেজে গেলে তাদের অ্যাটেনড্যান্স দেওয়া হয় না, ক্লাস করেও অ্যাটেনড্যান্স পান নি এমনও অনেকে রয়েছেন। এমন একজন শিক্ষক আছেন যিনি ক্লাসের ছবি তুলে নিয়ে গেছেন, বলেছেন পরে অ্যাটেনড্যান্স দিয়ে দেব। তারপর আর জানা যায়নি তিনি দিয়েছেন কিনা।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফর্মিং আর্টস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নীলাদ্রিবাবুকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি kolkata 24×7কে জানান, ‘আমি এই বিষয়ে যা বলার আমার হায়ার অথরিটিকে বলে দিয়েছি। আমি এই বিষয়ে আলোকপাত করতে পারব না। আমাকে মার্জনা করা হোক। ইউনিভার্সিটির নিয়ম মেনে আমাদের কাজ করতে হয়। আমি তাই করেছি। কন্ট্রোলার বিষয়টা দেখছেন তিনি যা বলার বলবেন।’

আগামী ২৭ মে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে পড়ুয়াদের। এদিকে, তাদের পরীক্ষায় বসতে পারার বিষয়টি নিয়েই রয়ে গেছে ধন্দ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে পরীক্ষার সময় তাদের মানসিক অবস্থার ওপর চাপ পড়ছে বলেও জানিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা।