ফরিদপুর: মাটির তলায় লুকিয়ে আছে বহু ইতিহাস। সেসব যখন বেরিয়ে আসে, তখনই জন্ম হয় নতুন ইতিহাসের। বহু বছর ধরে প্রত্নতত্ত্ববিদরা এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রকাশ্যে আনেন আমাদের অতীত। তেমনই এক ইতিহাসের সন্ধান মিলল যমুনা নদীর ধারে ফরিদপুরে।

গত সপ্তাহে কারনালের ফরিদপুর গ্রামে যমুনা নদীর ধারের বালি খুঁড়তেই বেরিয়ে এসেছে শিবলিঙ্গ ও নন্দীর মূর্তি। অন্তত ১০০০ বছর আগের সেসব মূর্তি বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আর্কিওলজি ও মিউজিয়াম বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর বনানী ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ২৫-৩০ ফুট গভীরে বালিতে ঢাকা ছিল ওই দুই মূর্তি। তিনি জানান, এই আবিষ্কার হয়ত নতুন করে কুশন যুগ নিয়ে কোনও তথ্য সামনে আনবে। দুই মূর্তির সঙ্গে দুটি পিলারও পাওয়া গিয়েছে। এই অঞ্চলে কুশন যুগ ও ভোজ যুগের বহু নিদর্শন পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন বনানী ভট্টাচার্য। এগুলি প্রথম শতক থেকে দশম শতকের মধ্যেকার বলে অনুমান করা হয়, অর্থাৎ ১০০০ বছরের পুরনো ইতিহাস।

মঙ্গলবার আধিকারিকরা গিয়ে ওই জায়গা পরিদর্শন করেছেন। গ্রামেই শিব ও নন্দির মূর্তি স্থাপন করেছেন স্থানীয়রা। সেগুলি দেখতে ছুটে যাচ্ছেন শয়ে শয়ে মানুষ। মন্দিরের ভিতরে রাখা হয়েছে মূর্তিগুলিকে। তাই সেখান থেকে মূর্তিগুলি সরালে স্থানীয়রা বাধা দিতে পারেন, তাই আধিকারিকরা সেগুলি নিয়ে আসতে পারছেন না। তবে মূর্তি যাতে নিরাপদে থাকে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডেপুটি কমিশনারকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, যাতে ওই এলাকায় খননকার্য বন্ধ থাকে। বৈজ্ঞানিকভাবে সার্ভে করে, তবেই খননকার্য হয়ে।

ওই এলাকা থেকে আরও মূর্তি উদ্ধারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রত্নতত্ত্ববিদরা। তাই ইতিমধ্যেই ওই জায়গা খতিয়ে দেখে এসেছেন তাঁরা। মূর্তিগুলি ১০০০ থেকে ২০০০ বছরের পুরনো অর্থাৎ কুশন যুগের বলেই তাঁদের ধারণা। আগামী সপ্তাহে ম্যাপিং হয়ে ইতিহাস খোঁজার কাজ শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।