মালদহ: দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির নিয়মে বদলে গিয়েছে পুরনো প্রথা। তাই একশো বছরের পুরনো পুজোর রীতি ভাঙলেন চাচল থানার কালী পুজো কমিটি। এ বছর থেকে বন্ধ হচ্ছে পাঠা বলি। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে থানায় আর পাঠাবলি হবে না। মঙ্গলবার দিন মন্দির প্রাঙ্গণে থাকা হাড়িকাঠটি তুলে পুরোহিত মতে মানিকচক গঙ্গায় গিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। এলাকার বাসিন্দা তথা, মন্দিরের অসংখ্য ভক্ত ও বিশিষ্টজনের সহমতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কথিত আছে একশো বছর আগে চাঁচলের খরবা পুলিশ ফাঁড়িতে কালীপুজোর প্রথম প্রচলন ছিল। ওখানে মা দক্ষিণা কালী রূপে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। জানা যায়, কালী পুজোর দিন অমাবস্যা তিথিতে খরবা থানায় প্রথম পুজো হয়, তারপর পুজো শেষ হয়ে যাবার পর মায়ের পূজিত ফুল চাচোল থানায় এনে মায়ের চরণে উৎসর্গ করে তারপর পুজো শুরু হয়। এই দিন রাত্রে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্তের সমাগম লক্ষ্য করা যায় মন্দির প্রাঙ্গণে। ঢাক ঢোল সহকারে নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীকে এখানে পুজো করা হয়।

পুজো শেষে রীতি অনুযায়ী, পাঠা বলি, কুমড়ো বলি, পায়রা বলি দেওয়ার প্রচলন থাকলেও এবার থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। চাচোল থানা মন্দির কমিটির এই সিদ্ধান্তকে সকলে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কারণ, প্রতিবছর পূজাকে কেন্দ্র করে চলত পাঠা বলি। তাতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হতো।

এ ব্যাপারে চাচল থানার পুলিশ আধিকারিক সুকুমার ঘোষ জানান,পুরনো প্রাচীন এই পুজো এবছর থেকে পূর্বের প্রচলিত প্রথা থেকে সরে এসে পাঠা বলি বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাঠা বলি অনেকে দেখতে চাই না, সমাজের বিশিষ্টজন থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদ ও ভক্তজনের সহমতের ভিত্তিতে পাঠা বলি বন্ধ রেখেছি। জাঁকজমক সহকারে পুজো থাকলেও এবার থেকে বন্ধ থাকছে পাঠা বলি।

চাঁচল থানার কালীপুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জোরদার প্রস্তুতি। গোটা মন্দির চত্বর করা হচ্ছে নতুন রং। ঝুলানো হচ্ছে রংবেরঙের আলো। চলছে প্যান্ডেল তৈরির কাজ। পুজোর দিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় এই মন্দির প্রাঙ্গণে। সবকিছুতে ছেদ না পড়লেও শতবর্ষে প্রাচীন চাঁচল থানার এই পুজোতে বন্ধ থাকছে বলি প্রথা।

মন্দিরের পুরোহিত অমিতেশ চক্রবর্তী জানান, শতবর্ষ প্রাচীন এই পুজো।ছয় বছর থেকে আমি এই পুজোর দায়িত্ব পাই। যথেষ্ট নিয়মনিষ্ঠা মেনে পুজো হয় এখানে। প্রতিবার বলিদান প্রথার প্রচলন থাকলেও কমিটির সিদ্ধান্তে এবার থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গঙ্গায় গিয়ে হাড়িকাঠ টি বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।