কলকাতা:  এমনিতেই রাজনৈতিক হাওয়া বদলের চাপে সভা ভরানো নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন দলের নেতা-কর্মীরা। তার মধ্যে তীব্র দাবদাহে দলের কর্মী-সমর্থকরা সভাস্থল ছাড়া শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসার আগেই। তাই নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট আগেই বক্তব্য শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের ধরে রাখার জন্য তাঁকে বলতে হল, বিজেপিকে রোখার জন্য সূর্য আপনাদের তেজ দিচ্ছে। আপনারা এটা নিন।

মমতার বক্তব্য শুরুর আগেই এদিন ধর্মতলা চত্বর ফাঁকা হতে শুরু করে। লোকজন সভাস্থল ছাড়তে শুরু করলে প্রথমে তৃণমূলের ভলান্টিয়াররা তাঁদের বাধা দেন। একটু জোর করে বসানোর চেষ্টা করেন। তাতে খানিকটা তর্কাতর্কিও হয়। কিন্তু অনেককেই আটকানো যায়নি। তাঁরা জোরজবরদস্তি বেরিয়ে যান। যা দেখে ইতিমধ্যে বিরোধীরা বলতে শুরু করেছেন ফ্লপ শো মমতার।

একদিকে যখন সভা ভড়াতে রীতিমত কষ্ট করতে হচ্ছে তৃণমূলের ভলেন্টিয়ার কর্মীদের। তখন অন্য ছবি ধরা পড়ল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে। ২১ জুলাই তৃণমূলের দীর্ঘদিনের কর্মসূচি। এই কর্মসূচি প্রত্যেক বারের রেকর্ড প্রত্যেক বার ভেঙে দেয় তৃণমূলই। কিন্তু এবার সব হিসেব বদলে দিয়েছে। এই অবস্থায় তৃণমূল ভেঙে ছারখার করল বিজেপি। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিলেন বেশ কিছু কর্মী, সমর্থক। একই সঙ্গে সিপিএম ছেড়েও গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন অনেকে। বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বের এই দলবদল হয়।

খামারবেড়িয়ার বিজেপি তৃণমূল এবং সিপিএম থেকে আসা দলের নতুন সদস্যদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বিজেপি-র বিষ্ণুপুর জেলার সহ- সম্পাদক অমরনাথ শাখা এবং বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের স্ত্রী সুজাতা খাঁ। এভাবে তৃণমূলের গড়ে বিজেপি যেভাবে থাবা বসিয়েছে তাতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে শাসকদলের। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে যারা দল ছাড়ার তাঁরা যেন এখনই ছেড়ে দেন। ফলে কে বা কারা গেল কিছু যায় আসে না বলেই মন্তব্য তৃণমূল নেতৃত্বের।

জানা যাচ্ছে, বাঁকুড়ার ওন্দা থানার খামারবেড়িয়া গ্রামে তৃণমুল এবং সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে নাম লিখেছে একশোটি পরিবার। বিজেপির দাবি, আগামীদিনে আরও মানুষ বিজেপিতে যোগ দেবে। বিশেষ করে তাঁরা শাসকদল তৃণমূল ছেড়ে আসবে।

প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনে এবার বাংলায় ভালো ফল করেছে বিজেপি। এক ধাক্কায় আসন সংখ্যা ২ থেকে বাড়িয়ে ১৮ তে নিয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে বাঁকুড়া এবং বিষ্ণুপুর লোকসভাও রয়েছে। এরপর থেকেই রাজ্যজুড়ে বিজেপি যোগদানের হিড়িক। তালিকায় শাসকদলের বিধায়ক থেকে কাউন্সিলর কে নেই। তবে আগামীদিনে সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলেই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।