স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: ডেঙ্গুর আতঙ্কে ঘুম উড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের চকভৃগু এলাকার বাসিন্দাদের। দক্ষিণের পর এবার উত্তরবঙ্গের এই জেলাতেও থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গুর মশা। ইতিমধ্যেই জেলার বালুরঘাট ও তপন এলাকায় প্রায় একশজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। যাঁদের দশজনেরও বেশি বালুরঘাট ব্লকের চকভৃগু পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। দৈনিকই নতুন করে কেউ না কেউ ডেঙ্গুর জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হচ্ছেন৷

পাশাপাশি, গোটা এলাকায় ঘুরছে মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা৷ স্বাস্থ্য দফতরের তরফে মেডিকাল টিম পাঠানো হয়েছে৷ মশা নিধনের ওষুধও স্প্রে করা হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে দক্ষিণ দিনাজপুরে মোট ৯৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। যাঁদের রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গুর জীবাণু মিলেছে।

আক্রান্তরা কেউ বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। কেউ আবার মালদহ মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখনও পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর নেই। স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তবে এবারে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ায় স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ এতদিন শহরাঞ্চলেই ডেঙ্গুর মশার উপস্থিতি টের পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু এবছর শহরাঞ্চলের একজনও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হননি৷

জানা গিয়েছে, যত জনের রক্তে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া গিয়েছে তাঁরা প্রত্যেকেই গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা। সব চেয়ে বেশি ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে বালুরঘাট ব্লকের মোয়ামারী ও বগুড়া কলোনি ও বরা গ্রামে। অন্যদিকে তপন ব্লকের ভাড়িলা ও ভবানীপুরে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

দক্ষিণ দিনাজপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুকুমার দে জানিয়েছে এপর্যন্ত ৯৭জন ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। আক্রান্তরা প্রথমে জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রত্যেকের রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে দুই তিন হাসপাতালে ভরতি হচ্ছে। চকভৃগু এলাকা থেকেই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দশ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গুর হদিশ পাওয়া মাত্র রীতিমত টিম নামিয়ে এলাকা গুলিতে স্প্রে ও জঙ্গল সাফাইয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে সচেতন করা কাজ শুরু করা হয়েছে।