শ্রীনগর: পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই পাল্টেছে কাশ্মীরে পরিস্থিতি। এবার জরুরি ভিত্তিতে ১০০ কোম্পানি প্যারামিলিটারি এয়ার লিফট করে নিয়ে যাওয়া হল জম্মু ও কাশ্মীরে। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে বিশেষ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকাতেই তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে কাশ্মীরে।

উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপর থেকে নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়ার পরই এই বিশাল সংখ্যক প্যারামিলিটারি মোতায়েন করা হল সেখানে। আগামী কয়েকদিন কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হবে। শুক্রবার সারারাত ধরে সেই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। ভিডিও প্রকাশ করে হামলার দায় স্বীকার করেছে জইশ-ই-মহম্মদ। এরপরই দেশ জুড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়।

জানা গিয়েছে, শ্রীনগরে মইসুমা রেসিডেন্স থেকে প্রথমেই গ্রেফতার করা হয়েছে ইয়াসিন মালিককে। এরপর জামাত-ই-ইসলামির একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হবে। এদের মধ্যে আব্দুল হামিদ ফয়াজকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের পর ইয়াসিনকে কোথিবাগ পুলিশ স্টেশনে নিয়ে আসা হয়েছে৷ শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎই গ্রেফতার করা হয়েছে জন্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট নামের বিছিন্নতাবাদী সংগঠনের প্রধান ইয়াসিন মালিককে৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে জঙ্গীরা কাশ্মীরের বিছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বড় কিছু করতে চাইছে৷ তারই আঁচ পেয়ে আগে থেকে তৈরি হচ্ছে ভারত৷

রসঙ্গত সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে গত বছর ডিসেম্বর মাসে ২১জনের একটি জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গী দল কাশ্মীরে প্রবেশ করেছে৷ যেখানে তিনজন আত্মঘাতী জঙ্গীও রয়েছে৷ একটি কাশ্মীর উপত্যকায় এবং দুটো কাশ্মীরের বাইরে, মোট তিনটে বিস্ফোরণ ঘটানোর প্ল্যান রয়েছে এই জঙ্গীদের৷ বিশেষজ্ঞদের মতে সেই কারণেই কাশ্মীরে শান্তি শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তায় কোনও ত্রুটি রাখতে চাইছে না মোদী সরকার৷