কলকাতা: ম্যাচ ফিক্সিং’য়ের কালো ছায়া থেকে বের করে ভারতীয় ক্রিকেটকে পাদপ্রদীপের আলোয় প্রতিষ্ঠা করার কাজটা খুব সহজ ছিল না। কিন্তু দক্ষ হাতে সেই কাজটা করেছিল বেহালার বীরেন রায় রোডের ছেলেটা। ১৯৯২ ওয়ান-ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (ওয়ান-ডে) অভিষেকটা সুখের হয়নি। চার বছর বাদে ১৯৯৬ ঐতিহাসিক লর্ডসে টেস্ট অভিষেকে শতরান। সেই শুরু ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরভ যুগের সূচনা।

চার বছর বাদে জাতীয় দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করে ২০০১ ঘরের মাঠে স্টিভ ওয়ার অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়ার টেস্টে বিজয়রথ থামানো, ২০০২ ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়, ২০০৩ বিশ্বকাপ রানার্স। সমস্ত ঘটনাই জানা ক্রিকেট অনুরাগীদের। ২০০৫ গুরু গ্রেগের সঙ্গে বিতর্কিত অধ্যায়। অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়া। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রমাণ করে ফের জাতীয় দলে ফিরে আসা। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মানে সাহস, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মানে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের অপর নাম।

টেস্ট ক্রিকেটে ৭,২১২ এবং ওয়ান-ডে’তে ১১ হাজারেরও বেশি রানের মালিক, অধুনা ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বময় কর্তা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ৪৮-এ পা দিলেন আজ। সব জানার মাঝেও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনের এমন কিছু ঘটনা রয়েছে যা অবাক করতে পারে অনুরাগীদের। জন্মদিনে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে এমনই ১০ অজানা তথ্য-

১. ছেলের মধ্যে নেতৃত্ব প্রদানের সহজাত ক্ষমতা ছোটোবেলাতেই উপলব্ধি করেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মা-বাবা। তাই তাঁরা ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘মহারাজ’। পরে সৌরভে মুগ্ধ জিওফ্রে বয়কট সেই নাম কিছুটা বদলে রাখেন ‘দ্য প্রিন্স অফ ক্যালকাটা’।

২. সৌরভ একজন ডানহাতি। কিন্তু তাঁর বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার কারণ দাদা স্নেহাশিষ গঙ্গোপাধ্যায়। ছোটোবেলায় দাদার কিটস পরেই প্র্যাকটিস সারতেন মহারাজ। আর দাদা স্নেহাশিষ বাঁ-হাতি হওয়ার ছোটোবেলা থেকে বাঁ-হাতি হিসেবেই ব্যাটিং প্র্যাকটিস শুরু হয় তাঁর।

৩. পরবর্তীতে দাদার পরিবর্ত হিসেবেই রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয়েছিল সৌরভের। ১৯৮৯-৯০ রঞ্জি ট্রফি ফাইনালে খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য বাদ পড়েন স্নেহাশিষ। পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান মহারাজ।

৪. ১৯৯২ ব্রিসবেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মহারাজের। কিন্তু আচরণগত সমস্যার জন্য দল থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। অভিযোগ ছিল জুনিয়র হয়েও সিনিয়র ক্রিকেটরদের জন্য মাঠে জল বয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা দেখাতেন সৌরভ। যদিও এমন অভিযোগ কখনও স্বীকার করেননি মহারাজ।

৫. ১৯৯৬ ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে দেশে ফেরার কয়েক সপ্তাহ বাদেই প্রেমিকা ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন সৌরভ। জানা যায় সৌরভ-ডোনার কারণেই দুই পরিবারের মধ্যে পুরনো তিক্ত সম্পর্কের অবসান ঘটে এবং দুই পরিবার দু’জনের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয়।

৬. ১৯৯৬ ইংল্যান্ড সফরে দ্বিতীয় টেস্টে নভজোত সিং সিধুর পরিবর্ত হিসেবে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন সৌরভ। তৎকালীন অধিনায়ক মহম্মদ আজহারঊদ্দিনের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে মাঝপথেই দেশে ফিরেছিলেন সিধু।

৭. সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা মতোই তিনবার অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন প্রাক্তন পেসার জাভাগাল শ্রীনাথ।

৮. কলকাতা তাঁর কৃতীদের সম্মান করতে জানে। সেই কারণেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে নামকরণ হয়েছে কলকাতা শহরের এক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স। যার নাম ‘সৌরভ হাউজিং কমপ্লেক্স’।

৯. বন্ধু সচিন তেন্ডুলকরের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ব্যবসায়িক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০০৪ কলকাতার অভিজাত এলাকা পার্ক স্ট্রিটে পথ চলা শুরু করে সৌরভের থ্রি-স্টোরে রেস্তোরাঁ ‘সৌরভস’। উদ্বোধন করেছিলেন সচিন তেন্ডুলকর।

১০. উত্তর ২৪ পরগণার রাজারহাটে ১.৫ কিলোমিটার রাস্তা নামাঙ্কিত করা হয়েছে ‘প্রিন্স অফ ক্যালকাটা’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে। রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার অন্তর্গত ‘সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অ্যাভিনিউ’য়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজেই।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ