নয়াদিল্লি: এবার থেকে দেশে একজন সেনা মারা গেলে তার বদলে দশ জন শত্রু মারা পড়বে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের সাঙলি জেলায় বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২১ অক্টোবর মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন৷ বিজেপি প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে স্পষ্টভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এবার থেকে দেশে একজন সেনা মারা গেলে তার বদলা হিসাবে দশ জন শত্রুকে নিকেশ করা হবে।

শুধু তাই নয়, প্রচারে গিয়ে তাঁর মুখে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং শারোদ পাওয়ারের সমালোচনা শোনা গিয়েছে অমিত শাহের গলায়৷ জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার স্পেশাল স্ট্যাটাস অর্থাৎ ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ায় তার তীব্র বিরোধিতা করেছিল কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি। এদিন মহারাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারের সভা থেকে কংগ্রেসের ৩৭০ ধারার বিরোধিতা করার বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

মহারাষ্ট্রের সাঙলি জেলায় বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মোদী সরকারের ৩৭০ ধারা বাতিল করা নিয়ে উপস্থিত মানুষদের সম্বোধন করে অমিত শাহ জানিয়েছেন, কংগ্রেস এবং শরোদ পওয়ারের স্পষ্ট করে মানুষকে জানানো উচিত, যে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পক্ষে রয়েছে নাকি বিপক্ষে রয়েছে। এই বিষয়ে তিনি ওই সভা থেকেই রাহুল গান্ধী এবং তাঁর দলকে ৩৭০ ধারা নিয়ে তাঁদের স্পষ্ট মতামত জানিয়ে দেবার কথাও বলেন।

শুধু তাই নয় তিনি এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্কিন সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, কিছুদিন আগেই বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর তাঁর এই বিদেশ সফরে বিশ্বের সমস্ত নেতারা ভারতের কাশ্মীরের ক্ষেত্রে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার বিষয়টি জানে। এমনকি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ৩৭০ ধারা ইস্যু নিয়ে পাকিস্তানের ভারত বিরোধিতা করায় বর্তমানে কার্যত বিশ্বের কাছে কোণঠাসা দেশে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান। সেই কথাও নির্বাচনী প্রচারে এসে জনসাধারণকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শাহ আরও জানিয়েছে, তাঁদের কাছে দলের থেকে দেশ বড়। তাই ১৯৭১ ভারত-পাকিস্তান যুদ্বের সময় ভারতের ভূমিকা নিয়ে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইন্দিরা গান্ধিকে ভূয়সী প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন বিজেপির নেতা তথা প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী।

শুধু তাই নয়, বিজেপির সভাপতি এদিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি। মনমোহন সিং-কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর আমলে সীমান্ত পেরিয়ে খুব সহজেই জঙ্গিরা ভারতে প্রবেশ করতে পারত। কিন্তু মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গিদের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের সব রাস্তায় বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এমনকি সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে সেনা এবং সেই সঙ্গে বেড়েছে কড়া নজরদারী৷ ফলে মোদীর নেতৃত্বে দেশে জঙ্গি অনুপ্রবেশ অনেক কমেছে বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।