স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: এনআরএস কাণ্ডে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্না পঞ্চম দিন হল৷ এই আন্দোলনের মাঝে জুনিয়র চিকিৎসকরা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। রাজ্য স্বাস্থ্য দ‌ফতর সেই ১০ দফা নির্দেশিকা জেলায় জেলায় পাঠায়।

জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতাল চত্বরে কোনো শারীরিক লাঞ্ছনা বা অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয় তাহলে বিভাগীয় প্রধানরা দ্রুত এফআইআর দায়ের করবেন। একইসঙ্গে গোটা বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে জানাতে হবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। এফআইআর করার পর অজামিনযোগ্য ধারায় তার মামলা শুরু করতে হবে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার তদন্তকারী অফিসারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি উদ্যোগ না নিলে তাঁকে ওই কেস থেকে পরিবর্তন করে দেওয়ার সুপারিশ করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথা নিরাপত্তা দেখভালকারী নয়া কমিটি।

ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। সেই কমিটিতে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তা, পুলিশ কর্তা ছাড়াও জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধি থাকছে। জুনিয়র চিকিৎসকরা রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন রেখে জানিয়েছেন, গত ৩ বছরে এই ধরণের ঘটনায় সরকার কি কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। হাসপাতালের ঢোকা ও বের হওয়ার পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার আবেদন করা হয়েছে।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে পরিকাঠামো তৈরি করার জন্য আবেদন রাখা হয়েছে৷ আরও কর্মী, চিকিত্সক নিয়োগের আবেদন রাখা হয়েছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অভ্যন্তরে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। রাস্তায় জল জমে যাওয়া নিত্যকার ঘটনা। তাই হাসপাতালের অভ্যন্তরে মসৃণ রাস্তা তৈরির আবেদন করা হয়েছে যাতে দ্রুততার সঙ্গে রোগী ও চিকিত্সকরা যাতায়াত করতে পারেন।

বর্ধমান হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট লাগানো, মহিলা হোষ্টেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো, জরুরি বিভাগ এবং রাধারাণী ওয়ার্ডে আরও বেডের সংখ্যা বাড়ানো, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা কেন্দ্র লাগোয়া পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ঘর তৈরি করা, আলাদা করে জরুরি বিভাগের অস্থি সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটার তৈরি করা, অপারেশনের পরবর্তী রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য ঘর তৈরি, শীততাপ আউটডোর তৈরি এবং চিকিত্সক রোগী সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি আলাদা সেল গঠন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কাছে।

গত চার দিনের মতোই শনিবারও বর্ধমান হাসপাতালের অচলাবস্থা জারি রইল। খোলেনি আউটডোর। জরুরি বিভাগেই পুরনো আউটডোরের রোগীদের চিকিত্সা চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বক্ষণের জন্য প্রচুর সংখ্যক পুলিশও দেওয়া হয়েছে।