বিশেষ প্রতিবেদনঃ দক্ষিণ এশিয়ার সর্বাধিক করোনা আক্রান্ত দেশ ভারত। সংক্রমণ ও মৃতের বিচারে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে পড়শি দেশে। তবে শনিবারের পরিসংখ্যানে এলো চমক। এই অঞ্চলে ভারতের পরেই উঠে এলো বাংলাদেশের নাম। মাত্র দু দিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ হোসেন স্বপন জানান, করোনা ধীরে ধীরে বাংলাদেশ থেকে দূর হয়ে যাচ্ছে। তাঁর এমন মন্তব্যে আলোড়ন ছড়ায়।

এর পরেই এলো সংক্রমণের নিরিখে পাকিস্তান কে টপকে যাওয়ার খবর। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে পাকিস্তানের থেকে কিছু বেশি করোনা রোগী চিহ্নিত হয়েছেন।এখনও পর্যন্ত মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেণ ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৬২৫ জন।

অন্যদিকে ওয়ার্ল্ডোমিটারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত পাকিস্তানে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৯২ হাজার ১৭৪ জন। পাক স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, করোনা রেখচিত্রে একধাপ নেমেছে দেশ। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় বাংলাদেশের থেকে পাকিস্তানকে পিছিয়ে গেল।

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেবে, আন্তর্জাতিক করোনা পরিসংখ্যানে নতুন রোগী শনাক্তের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তালিকার ক্রমিকে ৬।

আর করোনা সক্রিয় রোগীর তালিকায় অবস্থান ৯। ওয়ার্ল্ডোমিটার জানাচ্ছে, ভারতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৯ লক্ষ ৭৯ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা ৫৫সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশ যে করোনা সংক্রমণের প্রবল ঝুঁকিতে তার অনেক আগেই সতর্ক করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরে বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনা ক্রমে দক্ষিণ এশিয়ার দিকেই মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে।

ভারতীয় মুদ্রায় বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া- জি বিজনেস নামে একটি সর্বভারতীয় নিউজ ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, একটি রিসার্চের দাবি ভারতীয় মুদ্রায় ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগেও একটি সমীক্ষার তরফে দাবি করা হয়েছিল ভারতীয় নোটে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস থাকে। এমনকি ভারতীয় বিজ্ঞানীদের একটি প্যানেল নোট নিয়ে রীতিমতো পরীক্ষাও চালিয়েছিল।

রিসার্চের মাধ্যমে জানা গিয়েছিল- একটি রিসার্চের শেষে দাবি করা হয়েছিল ভারতীয় নোটে ফাঙ্গাস ও প্রোটোজোয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।

১০, ২০, ১০০ টাকার নোটে থাকতে পারে ভাইরাস- বিজ্ঞানীরা তাঁদের পরীক্ষায় ১০, ২০, ১০০ টাকার নোট ব্যবহার করেছিলেন। রোগ জীবাণু খুঁজে পেতেই এই পরীক্ষা চালিয়েছিল বিজ্ঞানীরা।

এই ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক- রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ ফাঙ্গাস ও প্রোটোজোয়া থাকতে পারে নোটের ওপর। ৯ শতাংশ ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে নোটের ওপর। রিপোর্ট জানাচ্ছে, নোটের ওপর খুব সহজেই এই ব্যাকটেরিয়া বসে যেতে পারে। নোটের মতো উন্নত মানের মোটা কাগজে থাকলে তার ওপরে এই ভাইরাস আরও বেশিদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ওই রিপোর্ট।

নোট কোথা থেকে নেওয়া হচ্ছে- বিজ্ঞানীরা যে নোটগুলির ওপর পরীক্ষা চালিয়েছিলেন, তার বেশিরভাগটাই সংগ্রহ করা হয়েছিল মুদি দোকান, স্ন্যাকসের দোকান, হকারদের কাছ থেকে। কারণ, এই ধরণের জায়গা থেকেই সবচেয়ে বেশি টাকা লেনদেন করা হয়।

নোটের প্রচলের ওপর নির্ভর করে ভাইরাসের সংখ্যা

রিপোর্ট জানাচ্ছে, নোটটি কত হাত বদল হয়েছে তার ওপরে নির্ভর করে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস। নোট যত পুরোনো হয় তত তাতে ভাইরাস বাড়তে পারে।

কোন দেশের নোটে সবচেয়ে বেশি ভাইরাস? একটি গবেষণা জানাচ্ছে, সারা পৃথিবীর মধ্যে প্যালেস্টাইনের নোটের ৯৬.২৫ শতাংশ, কলম্বিয়ার ৯১.১ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার ৯০ শতাংশ, সৌদি আরবের ৮৮ শতাংশ এবং মেক্সিকোয় 69৯ শতাংশ নোটে ভাইরাস থাকতে পারে।

বাঁচার উপায় কী? বৈজ্ঞানিকরা জানাচ্ছেন, প্লাস্টিক কারেন্সির ব্যবহার বাড়লে এই ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইংল্যান্ডের মতো দেশে এই কারেন্সির ব্যবহার জারি রয়েছে। প্লাস্টিক কারেন্সি ব্যবহার করলে তা ভাইরাস নুক্ত হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড বিভিন্ন লোকেরা হাতে যায় না, তাই সমক্রমণের আশঙ্কাও কম।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।