নয়াদিল্লি: ফের সতর্কবার্তা গোয়েন্দা সংস্থার৷ বিশেষ রিপোর্ট বলছে কেন্দ্রীয় সরকারকে এই মর্মে সতর্ক করেছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি৷ জানানো হয়েছে ১০ থেকে ১৫ জনের সশস্ত্র জঙ্গি দল ভারতে অনুপ্রবেশের জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে৷ কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এরা ভারতে প্রবেশ করতে চাইছে বলে জানানো হয়েছে৷

এই জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে দেশের বড় বড় শহরগুলি৷ জম্মু কাশ্মীরে বড়সড় হামলা চালানোর ছক কষেছে এই জঙ্গি দল৷ অথবা সেনা ঘাঁটিতে আক্রমণ চালানোর জন্য তৈরি হয়েছে এরা বলে জানাচ্ছে রিপোর্ট৷ এদের নিশানায় থাকতে পারে অমরনাথ যাত্রাও৷ যে রিপোর্ট কেন্দ্রের কাছে এসে পৌঁছেছে তাতে জানা গিয়েছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি নজরে এসেছে৷

আরও পড়ুন : ডাক্তারদের নিরাপত্তার দাবিতে জনস্বার্থ মামলা, সুপ্রিম শুনানি মঙ্গলবার

লোসারি ও সরদারি এলাকায় বেশ কয়েকজন বিদেশি জঙ্গির উপস্থিতিও নজরে এসেছে গোয়েন্দাদের বলে সূত্রের খবর৷ লোসার-১ থেকে সরদারি এলাকা দিয়ে ভারতের গোবিন্দ পোস্ট বা নানি পোস্টের দিক থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে এই জঙ্গি দল৷ গোয়েন্দাদের ধারণা আরেকটি জঙ্গিদল সক্রিয় হয়ে রয়েছে তিঞ্চের পার্বত্য এলাকায়৷ যারা মূলত লস্কর ই তইবা জঙ্গি গোষ্ঠীভুক্ত৷ কুপওয়াড়ার রেসওয়াড়ির জঙ্গলে এরা আত্মগোপন করে রয়েছে বলে খবর৷ এছাড়াও আরেকটি দল সক্রিয় হয়ে রয়েছে হুগোম ও বিজবেহারা এলাকায়৷ এরা প্রত্যেকেই সশস্ত্র৷

ভারতীয় গোয়েন্দাদের অনুমান প্রতিটি জঙ্গি দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই৷ এর আগেও জানানো হয়েছিল সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে জঙ্গিরা৷ কাশ্মীর সীমান্তে অনুপ্রবেশ করার সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে বসে রয়েছে পাকিস্তান মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্যরা৷

আরও পড়ুন : পক্ষ-বিপক্ষ ভুলে ‘নিরপেক্ষ’ হয়ে কাজ শুরু হোক : মোদী

রিপোর্ট জানায়, জম্মু কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এলাকা রাজৌরি বরাবর নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে জঙ্গিরা৷ দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এই জঙ্গিরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে৷ প্রতিটি গ্রুপে কমপক্ষে ৫জন করে সশস্ত্র জঙ্গি রয়েছে বলে খবর৷ পাক অধ্যুষিত কাশ্মীর থেকে একটি কালো রংয়ের গাড়িতে এই জঙ্গিরা এসেছে৷ কোটলি সন্ত্রাস প্রশিক্ষণ শিবির থেকে এদের নিয়ে আসা হয়েছে নিকিয়াল এলাকায়৷

একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে হাজি আরিফ নামে এক ব্যক্তি৷ সে ভারতে প্রবেশের অপারেশনের যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করবে বলে জানা গিয়েছে৷ ভারতীয় গোয়েন্দাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আরেকটি গ্রুপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ মোহরা শেরিদ গ্রামের সীমানা লাগোয়া এলাকায় সন্দেহজনক কিছু ব্যক্তির উপস্থিতি রয়েছে বলে জানিয়েছে রিপোর্ট৷

এই গ্রুপে লস্কর ই তৈবা ও জইশ ই মহম্মদের মত জঙ্গি সংগঠনের সদস্য থাকতে পারে বলে খবর৷ ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের কিছু সদস্য এই জঙ্গি দলটিকে নির্দেশিকা দেবে৷