ভারতীয় সেনা, ফাইল ছবি

শ্রীনগর: জম্মু কাশ্মীর ফের উত্তপ্ত৷ আইইডি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল জম্মু কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলা৷ বুধবার পুঞ্চের মেন্ধার সেক্টর সংলগ্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এই বিস্ফোরণ হয়৷ ঘটনাস্থলেই শহিদ হন এক জওয়ান৷

আরও ৮জন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর৷ ঠিক কি কারণে বিস্ফোরণ তা এখনও জানা যায়নি৷ সেনা সূত্রে খবর ১২ মাদ্রাস রেজিমেন্টের বারাসিংহা ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা গুরুতর আহত হয়েছেন৷ এই ব্যাটেলিয়ানের জওয়ানরা পেট্রোলিং চালাচ্ছিলেন পার্বত্য দেরা দিবসি এলাকায়৷ তখনই ঘটনাটি ঘটে৷

আহতদের দ্রুত সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ পরে উধমপুরের নর্দার্ন কম্যাণ্ড হাসপাতালে ভরতি করা হয়৷

আরও পড়ুন : গণনার দিন হিংসা ছড়াতে পারে, রাজ্যকে সতর্কবার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের

এদিকে, সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয় এক হিজবুল জঙ্গি৷ বাকিদের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি৷ বুধবার ভোররাত থেকে দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামের গোপালপোরা গ্রামে সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ বাধে৷ দু’পক্ষের গুলির লড়াইয়ে এক জঙ্গি মারা যায়৷ এনকাউন্টারস্থলে আরও দুই-তিন জঙ্গি লুকিয়ে আছে বলে খবর মেলে৷ তাদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে জওয়ানরা৷ শুরু হয় গুলির লড়াই৷

এক সেনা অফিসার জানান, এনকাউন্টারস্থল থেকে এক জঙ্গির দেহ মেলে৷ সঙ্গে বন্দুক ও অস্ত্র উদ্ধার হয়৷ মৃত জঙ্গির নাম জাহিদ আহমেদ মান্তু৷ সে সোপিয়ানের বাসিন্দা৷ একবছর আগে জঙ্গি সংগঠন হিজবুলে নাম লেখায় সে৷ এনকাউন্টারের জেরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে দক্ষিণ কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে৷

আরও পড়ুন : ভোট গণনা কেন্দ্রে আমার উপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে: বিস্ফোরক অর্জুন

উপত্যাকা জুড়েই বিগত কয়েকদিন ধরেই তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী৷ মঙ্গলবার পুলওয়ামায় তল্লাশি অভিযান চলাকালীন জওয়ানদের লক্ষ করে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা৷ যদিও কেউ হতাহত হয়নি৷ পুলিশ জানিয়েছে, পুলওয়ামা চকের একটি রাষ্ট্রয়ত্ত ব্যাংকের কাছে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ করে গ্রেনেড ছোড়া হয়৷ রাস্তায় সেটি বিকট শব্দে ফেটে যায়৷ আতঙ্কে মানুষ এদিক ওদিক ছুটতে শুরু করে৷ কেউ আহত হয়নি৷

ওই দিন সন্ধ্যাতে সীমান্তে সাম্বা সেক্টরে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি সঙ্ঘন করে পাক রেঞ্জার্সরা৷ ভারতীয় সেনার দাবি এমনটাই৷ জবাব দিতে ভারতীয় সেনার প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে৷ গভার রাত পর্যন্ত এই লড়াই জারি ছিল বলে জানা গিয়েছে৷ পুলিশ সূত্রে খবর, পাক রেঞ্জার্সরা নিশানা করেছিল বিএসএফের আবস্থান৷ তা লক্ষ্য করেই চলে গুলি চালায় তারা৷ পালটা জবাব দেয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী৷ শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত এই গুলির লড়াই জারি ছিল৷ তবে সময়োচিত জবাব দেওয়ায় পাক বাহিনী কিছুটা পিছোতে বাধ্য হয়৷