প্রীতম সরকার, রায়গঞ্জঃ জলেই তাঁর জীবনের ৪০টা বছর কেটেছে। ঘুরে ফেলেছেন ৫০ টিরও বেশি দেশ৷ যেখানে যা ভালো দেখেছেন, নিয়ে চলে এসেছেন রায়গঞ্জের বাড়িতে৷ এমনই শখ ছিল রায়গঞ্জের বাসিন্দা তথা মার্চেন্ট নেভির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বিমলকুমার সাহার৷ এভাবে বেড়েছে তাঁর সংগ্রহের সংখ্যা। পরে তা এতটাই বেশি হয়ে যায় যে, সাজিয়ে নিজস্ব একটি সংগ্রহশালায় তৈরি করে ফেলেছেন বিমলবাবু৷ তাঁর সংগ্রহশালায় জমেছে নিয়ে আসা সাত সমুদ্রের জল৷ রয়েছে বিভিন্ন দেশের নানান জিনিষপত্র।

তবে, জনসাধারণের জন্য খোলেননি এই সংগ্রহশালা৷ নিখাদ নিজের নেশায় গড়ে তুলেছেন সংগ্রহশালাটি। প্রতিটি জিনিসের সঙ্গে জীবনের ইতিহাস খুঁজে বেড়ান তিনি। নিজেই জানালেন ১৯৬৩ সালে নেভিতে যোগ দেন বিমলবাবু ৷ কাজের সূত্রে ঘুরতে শুরু করেন দেশে বিদেশে৷ নীল আর্মস্ট্রং যখন প্রথম চাঁদে পা রাখেন তখন বিমলবাবু জার্মানিতে৷

সব জায়গার সংবাদপত্রেই বেরিয়েছিল সেই ছবি৷ সে সময় জার্মানির এক পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি সযত্নে ফ্রেমে বাঁধিয়ে রেখেছেন নিজের সংগ্রহশালায় ৷ জার্মানিতে একসময় কেরোসিনের ওভেনে রান্না হত, সেই ওভেনও রয়েছে তাঁর সংগ্রহশালায়৷ দেশ-বিদেশের ডাকটিকিট, জার্মানির বিখ্যাত রঙিন ছাতাও তিনি বাড়ি নিয়ে এসেছেন৷

বিমলবাবুর সংগ্রহশালায় রয়েছে, সোনি কম্পানির রেডিও, জার্মানির চশমা, বিভিন্ন দেশের হরলিক্সের বোতল, নিভিয়া কম্পানির প্রসাধনী, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত বিখ্যাত লেখা৷ তাঁর কর্মজীবন যেহেতু জলপথে ছিল, তাই সাত সমুদ্রের জলও বোতলে করে বাড়ি নিয়ে এসেছেন তিনি৷

৮৪ বছর বয়সি বিমলবাবুকে এই সংগ্রহশালা গড়তে সাহায্য করেছেন তাঁর ছেলে-মেয়েরা৷ তাঁর মৃত্যুর পরও এভাবেই থাকুক সংগ্রহশালাটি এটাই তাঁর এখন ইচ্ছা। বিমলবাবু বলেন, “কর্মসূত্রে দেশ-বিদেশ বিভিন্ন জায়গায় যেতে হত৷ তাই যেখানে যা পছন্দ হত, তা সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছিলাম৷ জানতাম না একদিন নিজের সংগ্রহশালা বানিয়ে ফেলব৷ আমার বাড়িতে যাঁরা আসেন, তাঁরা এই সংগ্রহশালার জিনিস দেখে খুশি হন৷ এটাই আমার কাছে প্রাপ্য৷”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ