হায়দরাবাদ: শাসকের গদি প্রায় নিশ্চিত। তবে সেই গদি আরও শক্তিশালী করতে হবে। কে গড়বে সেই মজবুত পিলার। তা নিয়েই এখন শুরু হল লড়াই।

চিত্রটা তেলেঙ্গানা রাজ্যের। গত শুক্রবার ওই রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার হবে ভোট গণনা। সকালের দিকে গণনা শুরু হওয়ার কথা, দুপুরের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে তেলেঙ্গানা বিধানসভার চিত্র।

বিদায়ী শাসক তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি বা টিআরএস ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে ইঙ্গিত মিলেছে জনমত সমীক্ষায়। ভোটের আগে এবং পরে সকল সমীক্ষাতেই টিআরএসকেই এগিয়ে রেখেছে গবেষণা সংস্থাগুলি। রিপোর্ট অনুসারে ১১৯ আসনের তেলেঙ্গানা বিধানসভায় ৬৬ টি আসন পেতে পারে টিআরএস। কংগ্রেসের দখলে যেতে পারে ৩৫ থেকে ৩৭ টি আসন। বিজেপি পেতে পারে পাঁচ থেকে নয়টি আসন। এআইএমআইএম-এর ঝুলিতে যেতে পারে সাত থেকে আটটি আসন।

সমীক্ষার তথ্য মেনে নিয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পর্যায়ের গুটি সাজাতে শুরু করেছে সকলেই। প্রথম থেকেই টিআরএস-কে সমর্থন জানিয়ে এসেছে এআইএমআইএম। টিআরএস কেসিআর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বলে দাবিও করেছেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। টিআরএস প্রার্থীর হয়ে প্রচারেও গিয়েছেন আসাদুদ্দিন। তবে কেসিআর সরকার গড়লে সেখানে এআইএমআইএম অংশ নেবে না বলে ভোটের আগেই ঘোষণা করে দিয়েছেন ওয়াইসি।

প্রথম থেকেই কেসিআর এবং টিআরএস-র বিরুদ্ধে ছিল কংগ্রেস এবং বিজেপি। দুই দলই প্রচারে সুর চড়িয়েছিল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। এদের দোসর ছিল বামেরা। কিন্তু ফল ঘোষণার দিন দুই আগে সুর বদলে করেছে বিজেপি। সরাসরি নাম উল্লেখ না করে কেসিআরকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি। তেলেঙ্গানার বিজেপি প্রধান কে লক্ষণ বলেছেন, “আমরা কংগ্রেস এবং এআইএমআইএম-কে সমর্থন করব না। অন্য সকল মত স্বাগত।”

জনমত সমীক্ষার ফল সত্যি ধরে নিলে বিজেপির আসন সংখ্যা দুই অংক ছুঁতে পারবে না। তারপরেও কে লক্ষণ বলেছেন, “বিজেপি ছাড়া তেলেঙ্গানায় সরকার গঠন সম্ভব নয়। জনগণ স্পষ্ট রায় না দিলে আমরা সরকারের অংশ হচ্ছি।” যাবতীয় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তেলেঙ্গানার বিজেপি সভাপতি কে লক্ষণ।

বিজেপি নেতার এই অভিমত শুনে পালটা চাল দিয়েছে কংগ্রেস। টিআরএস আর বিজেপি জোট গড়লে এআইএমআইএম-কে সঙ্গে নিয়ে চলতে আপত্তি নেই কংগ্রেসের। হাত শিবিরের পক্ষ থেকে। জিএন রেড্ডি বলেছেন, “আমাদের দেশে কোনও রাজনৈতিক দল স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু হয় না। টিআরএস যদি বিজেপির সঙ্গে জোট করতে পারে তাহলে এআইএমআইএম আমাদের জোটে স্বাগত। অবশ্যই যদি তারা রাজি থাকে।” এর আগে কংগ্রেসের ইউপিএ জোটে ছিল আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম। পরে তিনি জোট ত্যাগ করেছিলেন।