লন্ডন: ব্যাটিং সহায়ক পিচে টস জিতে ফ্যাফ ডু’প্লেসির প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে ফিরবে কিনা, তা সময় বলবে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের অনবদ্য পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপে স্বপ্নের শুরু বাংলাদেশের।

তৃতীয় উইকেটে শাকিব আল হাসান ও মুশফিকুরের ১৪২ রানের পার্টনারশিপে ভর করে প্রথম ম্যাচে প্রোটিয়াদের চ্যালেঞ্জিং ৩৩১ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিল বেঙ্গল টাইগাররা। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে স্কোরবোর্ডে এই রান হয়তো প্রত্যাশা করেননি বাংলাদেশ অনুরাগীরাও। কিন্তু বিশ্বকাপ তো বটেই, ব্যাটসম্যানদের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স ওয়ান-ডে ক্রিকেটে বাংলাদেশকে পৌঁছে দিল তাদের সর্বোচ্চ রানের চূড়ায়।

প্রথম ম্যাচে আয়োজক ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা ওভালে টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। চোটের কারণে ডেল স্টেইনের একাদশে ফেরার সম্ভাবনা ছিল না। তালিকা দীর্ঘ করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাঠের বাইরে চলে যান ওপেনার হাসিম আমলাও। স্টেইনহীন দক্ষিণ আফ্রিকান বোলিং আক্রমণের সামনে এদিন শুরু থেকেই জাঁকিয়ে বসেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। সৌম্য সরকারের সঙ্গে ওপেনিং পার্টনারশিপে ৬০ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ১৬ রানে ফেরেন তামিম ইকবাল। ৩০ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো রানের ইনিংস খেলে আউট হন সৌম্য।

এরপর ওভালের বাইশ গজে শুরু হয় অভিজ্ঞ শাকিব আল হাসান ও মুশফিকুরের ধ্রুপদী ব্যাটিং। লুঙ্গি এনগিদি, ক্রিস মরিসদের সাধারণ স্তরে নামিয়ে এনে অর্ধশতরান পূরণ করেন দুই বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান। একইসঙ্গে তৃতীয় উইকেটে শাকিব-মুশফিকুরের ১৪২ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ চালকের আসনে বসিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। যে কোনও উইকেটে যা সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ বাংলাদেশের জন্য। ৮৪ বলে ৭৫ রান করে সাকিব যখন তাহিরের শিকার হন, বাংলাদেশের রান তখন ৩৫.১ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৭। এদিন শাকিবের দুরন্ত ইনিংস সাজানো ছিল ৮টি চার ও ১টি ছয়ে। ২১ বলে ২১ রান করে ফেরেন মহম্মদ মিঠুন।

এরপর নিশ্চিত শতরানের দিকে ধীরে ধীরে এগোতে থাকা মুশফিকুরের উইকেট হারিয়ে সাময়িক চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। ৮ টি চারের সাহায্যে ৮০ বলে ৭৮ রানের অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন মুশফিকুর। ষষ্ঠ উইকেটে মোসাদ্দেক ও মাহমুদুল্লাহর ৬৬ রানের পার্টনারশিপ চাপের পরিস্থিতি থেকে বের করে আনে বাংলাদেশকে। স্লগ ওভারে দুই ব্যাটসম্যানের ঝোড়ো ইনিংস ৩০০-র গন্ডি পার করে বড় রানের দিকে এগিয়ে দেয় এশিয়ার দেশটিকে। মোসাদ্দেক ২০ বলে ২৬ রানে আউট হলেও ৩৩ বলে মাহমুদুল্লাহর ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস ওয়ান-ডে ক্রিকেটে বাংলাদেশকে পৌঁছে দেয় তাদের সর্বোচ্চ রানে। ৫ রানে অপরাজিত থাকেন মেহদি হাসান। ৬ উইকেটে ৩৩০ রানে শেষ হয় টাইগারদের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ২টি করে উইকেট নেন ফেহলুকাও, মরিস ও তাহির।