স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : বিগত দশকেও গ্রাম বাংলায় প্রায়শই বাজ,শকুনের মতো বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মিলত।কিন্তু,ক্রমবর্ধমান দূষণ সহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে সচরারচর এই সমস্ত পাখির দেখা মেলেনা বললেই চলে। বুধবার গ্রামীণ হাওড়ার বাগনান থানার মুকুন্দদিঘী গ্রাম থেকে উদ্ধার হল একটি বাজ শাবক।

বুধবার সকালে পুকুরের পাড়ে বাজ শাবকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন ওই গ্রামেরই বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক বিমল বোধক।তিনি পাখিটিকে তৎক্ষনাৎ উদ্ধার করে বন দফতরে খবর দেন। বন দফতরের প্রতিনিধিরা এসে বাজ শাবকটিকে নিয়ে যায়। অন্যদিকে বন্য পশুর উদ্ধারেও কোচবিহার জেলা পুলিশ পাতলাখাওয়া জঙ্গল থেকে এক হরিণ পথ ভুলে চলে আসে ডাং ডিং গুড়ি। একদল মানুষ হরিণটিকে যখন ধরে , তখন পুলিশ খবর পেয়ে এসে হরিণটিকে উদ্ধার করে বনদফতরের হাতে তুলে দেয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে , ‘লকডাউন পরিস্থিতিতে জঙ্গল থেকে লোকালয়ে চলে আসা কোনও বনজ পশুর খবর পেলে পুলিশকে যেন জানানো হয়।’

প্রসঙ্গত, গ্রামীণ হাওড়ায় রয়েছে ধূলাগড়,উলুবেড়িয়ার মতো বড়ো ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। শ্যামপুরে রয়েছে কয়েকশো ইটভাটা। এর পাশাপাশি,জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন ব্লকে প্রতিদিন কয়েক হাজার যান চলাচল করে।লকডাউনের ফলে সমস্ত কিছুই প্রায় বন্ধ। যার ফলে বাতাসে দূষণের মাত্রা হু-হু করে কমছে। দৃশ্যমানতা বৃদ্ধির সাথে পরিবেশ ফিরে পেয়েছে তার সুনির্মল রূপ।পাখিরা মুক্ত বাতাসে ডানা মেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর তারা যেন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। মানুষের কোলাহল কমতেই ফিরছে হারিয়ে যাওয়া পাখি। কাক,কোকিলের মতো চেনা পরিচিত বিভিন্ন পাখির পাশাপাশি মনুষ্য বসতি থেকে কার্যত হারিয়ে যেতে বসা বেশ কিছু প্রজাতির পাখিরও দেখা মিলছে।যেমন বাড়ির আশেপাশেই কণ্ঠি ঘুঘু, ব্লিথের রিড ওয়ার্বলারদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে যা আগে শান্ত ফাঁকা জায়গাতেই বেশী দেখা যেত।

এদিকে হাওড়া সদরে অন্য চিত্র। সেখানে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দিনদিন বাড়তে থাকায় আরও কড়া পদক্ষেপ করল প্রশাসন। হাওড়া পুরসভার যে সব এলাকা ‘রেড স্টার জ়োন’ বা ‘রেড জ়োন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, সোমবার সেখানকার সমস্ত বাজার সকাল ১০টার মধ্যে বন্ধ করে দিল পুলিশ। পাশাপাশি, ওই সব এলাকার প্রতিটি ব্যাঙ্ককেও আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিকে উত্তর হাওড়ার সালকিয়া, হাওড়া ময়দান, টিকিয়াপাড়া ও মল্লিকফটকের মতো কিছু এলাকায় করোনা-আক্রান্ত রোগীদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। এ দিন অবশ্য হাওড়া পুরসভার আরও কয়েকটি ওয়ার্ড থেকে সংক্রমণের খবর আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে মধ্য হাওড়ার শিবপুর থানার দুই পুলিশ অফিসারের করোনা-পরীক্ষার রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে। অন্য দিকে, দক্ষিণ হাওড়ার বটানিক্যাল গার্ডেন থানাতেও এক পুলিশকর্মীর করোনা সংক্রমণ হয়েছে। তাঁকে গোলাবাড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই থানার আরও তিন জন পুলিশকর্মীকে ডুমুরজলা কোয়রান্টিন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ