স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩৯ জন বিদেশি ধর্মপ্রচারক-সহ মোট ৫৩ জনকে উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। তাঁদের প্রত্যেককেই রাজারহাট হজ হাউসে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ধর্মপ্রচারকদের দাবি, লকডাউনের ফলেই কলকাতায় এসে আটকে পড়েছেন তাঁরা। যদিও তাঁরা দেশে ফেরার টিকিট দেখাতে পারেননি। এমনকি দূতাবাস কিংবা সরকারি অফিসারদের সঙ্গে দেখা করেননি। ফলে তারা আদৌ সত্যি বলছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ জেগেছে।

পশ্চিমবঙ্গের ৭৩ জন দিল্লির নিজামউদ্দিন মসজিদের সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন, এটা জানার পরই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। মঙ্গলবার রাতে একাধিক জায়গায় হানা দেয় তারা। তল্লাশি অভিযানে নারকেলডাঙার এক ধর্মস্থল থেকে মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই দলের সদস্যরা কেউ যুবক, তো আবার কেউ বৃদ্ধ। তাঁরা প্রত্যেকেই থাইল্যান্ড থেকে এসেছেন। মায়ানমার থেকে আসা মোট ১৩ জন ধর্মপ্রচারককে জোড়াসাঁকো থানা এলাকার ধর্মস্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।

গার্ডেনরিচের এক ধর্মস্থান থেকে মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৯ জন মালয়েশিয়া এবং ৪ জন ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা। দিল্লি থেকে আসা ৪ জনকে নিউমার্কেট থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। এছাড়াও ৬ জন ভারতীয় গাইডেরও খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককেই রাজারহাটের হজ হাউসে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব মঙ্গলবারই জানিয়ে দিয়েছেন, নিজামউদ্দিন মসজিদের সমাবেশে এরাজ্যের ৭৩ জন যোগদানকারীকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হচ্ছে। সবারই করোনা পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত ২৪ তারিখ দেশ জুড়ে লকডাউন চলছে। কিন্তু তার পরেও কিভাবে দিল্লির মারকাজ নিজামউদ্দিন মসজিদে শয়ে শয়ে দেশ-বিদেশি মানুষ ছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

যদিও মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, আগে দিল্লিতে এবং পরে গোটা দেশে লকডাউনের জেরে ওই অনুষ্ঠানের পরে গন্তব্যে ফিরতে পারেননি অতিথিরা। তার জন্যেই মসজিদে ছিলেন। শহর থেকে উদ্ধার হওয়া ধর্মপ্রচারকরাও এই একই কথা বলছেন। কিন্তু তাদের কথায় অসংগতি রয়েছে বলে খবর। প্রসঙ্গত, দিল্লির মারকাজ নিজামউদ্দিন মসজিদে একটি ধর্মীয় জমায়েত উপলক্ষে জড়ো হওয়া মানুষজনের মধ্যে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আক্রান্ত ছিলেন অন্তত ২০০ জন।

মঙ্গলবার দিল্লি ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে আরও ৩৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই সম্মেলনের জেরেই দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। জানা গিয়েছে, ওই জমায়েত থেকে তেলেঙ্গানায় ফেরা ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে মৃত্যু হয়েছে আরও এক জনের। আন্দামান নিকোবরে ফিরে যাওয়া ১০ জনের করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

এর মধ্যেই সোমবার দিল্লির লোকনায়ক হাসপাতালে ভর্তি ১০২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁদের মধ্যে ২৪ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। নিজামউদ্দিন মসজিদ থেকে এনে রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতালেও অনেককে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের রিপোর্ট এখনও আসেনি। সেই রিপোর্ট এলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।

অন্য দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকেও ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর মিলেছে। তাবলিগ-ই-জামাতের ওই জমায়েতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মিয়ানমার, কিরগিজস্তান এবং সৌদি আরব থেকে মানুষ এসে যোগ দেন। আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফিজি, ফ্রান্স এবং কুয়েত থেকেও সদস্যরাও যোগ দেন।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।