কলকাতাঃ  স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন উপলক্ষে বেলুড় মঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখান থেকেই দেশের নতুন জেনারেশনের জন্যে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। তবে মঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কথা বলেছেন। কি এই নাগরিকত্ব আইন? তা সবার উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন। বেলুড় মঠে দাঁড়িয়ে এহেন মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন বেলুড় মঠে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলেন মোদী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।

বাম নেতা মহম্মদ সেলিম এদিন বলেন, ‘উনি সরকারি কাজে এসেছেন। ওনার বেলুড় মঠকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা উচিৎ হয়নি। শুধু সেলিমই নয়, মোদীর এহেন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মোদীর এহেন বক্তব্যে নিজেকে লজ্জিত মনে করছেন বলেই মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এই টেলিভিশনকে সাক্ষাতকারে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নিজেকে লজ্জিত মনে হচ্ছে। আমার মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। মঠকে রাজনৈতিকে আখড়া হিসেবে ব্যবহার করেছে প্রধানমন্ত্রী। আমি এই কথা পরবর্তীকালেও তুলব। বেলুড় মঠের সভামঞ্চ ব্যবহার করে তিনি রাজনীতির করেছে এটা অত্যন্ততই লজ্জার বিষয়।” এখানেই শেষ নয়, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, “ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কুরুচীকর। প্রধানমন্ত্রীই হোন বা কোনও বরেণ্য নেতাই হোক, মঠের মঞ্চে রাজনৈতিক কাজে বক্তব্য করা যায় না। তাঁর কিছু মন্তব্য করার থাকলে তিনি অন্যত্র সে কথা বলতে পারতেন। আমরাও তার অন্যত্র মোকাবিলা করতাম।”

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন বেলুড় মঠে আরও বলেন, সিএএ নিয়ে যুব সম্প্রদায়কে ভুল বোঝানো হচ্ছে। বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থেই ভুল বোঝানো হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী কটাক্ষ করেন। তাঁর মন্তব্য, ছোটো ছোটো বিদ্যার্থীরা বুঝে গিয়েছে, আর রাজনৈতিক কারবারীরা বোঝার চেষ্টা করছেন না। আসলে, তারা না বোঝার চেষ্টা করছে বলে বিরোধীদের তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী।

বিবেকানন্দের জন্মদিনে বেলুড় মঠে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “এটা নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, কেড়ে নেওয়ার নয়। যুব সম্প্রদায় গুজবের শিকার হচ্ছে বলেও এদিন উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, এই আইন রাতারাতি তৈরি হয়নি। ধর্ম নির্বিশেষে যেসব মানুষ ভারতের সংবিধান মানেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই নাগরিকত্বের অধিকার আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।