স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের লক্ষ লক্ষ গৃহ পরিচারক -পরিচারিকাদের মাসিক বেতন দেওয়া হোক। লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারকে এই প্রস্তাব দিলেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য। এছাড়াও লকডাউনে চাকরি হারানো মানুষগুলোর জন্য সরকার কি ভাবছে, সেই প্রশ্নও করেছেন তিনি।

প্রদীপ ভট্টাচার্য প্রেস বিবৃতিতে লিখেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ৩.০ লকডাউন-এর প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেসের বক্তব্য আগের মতোই আছে। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের পাশে আছি। কিন্তু আমাদের নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রশ্ন আছে সরকারের কাছে। এক,তৃতীয় পর্যায়ের লক ডাউনের পরে দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতির ফলে যাদের ইতিমধ্যেই চাকরি গেছে অথবা যাদের চাকরি যাবে, তাঁদের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী ?

দুই, এইভাবে লক ডাউনের সময় অর্থনীতির সঠিক দিশা না থাকলে অচিরেই গরিব মানুষ থেকে ক্ষুদ্র-অতিক্ষুদ্র শিল্পের অবস্থা এতটাই খারাপ হবে যে তাঁর প্রভাব কাটানো সম্ভব হবে না। এই বিষয়ে সরকার বক্তব্য স্পষ্ট করুক। তিন, সবচেয়ে বেশি যাদের কথা অনুচ্চারিত থাকে তারা হলো মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণী। এই শ্রেণীর মানুষ চূড়ান্ত দুর্ভোগ সহ্য করছে।

কারও অফিসের বেতন হয়নি অথবা কেউ বেতনের অর্ধেক পেয়েছেন। তাদের খরচ কিন্তু কমেনি, বাড়ি ভাড়া অথবা ব্যাংকের কিস্তি সবই দিতে হচ্ছে। ছেলেমেয়ের স্কুলের ফি দিতে হচ্ছে। বাড়ির পরিচারক-পরিচারিকারা কাজ না করলেও তাদের বেতন দিতে হচ্ছে। আমাদের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের লক্ষ লক্ষ গৃহ পরিচারক -পরিচারিকাদের মাসিক বেতন দেওয়া হোক।

আরও দু’সপ্তাহ বাড়ানো লকডাউনের মেয়াদ। শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। আপাতত ১৭ মে পর্যন্ত চলবে দেশজোড়া লকডাউন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জারি করা এই প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে করোনা পরিস্থিতি বিচার করে দেখা গিয়েছে, লকডাউনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে কোভিড মোকাবিলায়।

তাই ভারত সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা আইন ২০০৫ অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে চিহ্নিত করা রেড, অরেঞ্জ ও গ্রিন জ়োনের কোথায় কতটা ঝুঁকি রয়েছে, কী ভাবে চলতে হবে, কী করতে হবে, কীসে কীসে নিষেধাজ্ঞা, সেই অনুযায়ী কী ব্যবস্থা করতে হবে সেই সংক্রান্ত একটা গাইডলাইনও প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া লকডাউন চলাকালীন অরেঞ্জ ও গ্রিন জোনে কী কী বিষয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে তার উল্লেখও রয়েছে এই গাইডলাইনে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প