স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: সাতজনের ছোট্ট একটি দল। ওদের প্রত্যেকের মধ্যেই রয়েছে অজানাকে জানবার,অদেখাকে দেখবার গভীর স্পৃহা। আর তার টানেই ওরা কখনো পাড়ি দেয় সান্দাকফুর শীর্ষে আবার কখনও বা হিমাচলের দুর্গম গিরিপথে। প্রতিবছরই এপ্রিল নাগাদ উঁচু নীচু পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে আমতার এই সমস্ত তরতাজা প্রাণরা পৌঁছে যায় নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্যে।

এবারও সেই উদ্যোগ নিয়েছিল এই সাত তরুণের সম্মিলিত প্রয়াস ‘সপ্তর্ষী’। ট্রেকিংয়ের জন্য বছরভর অল্প অল্প করে প্রায় লাখখানেক টাকা জমিয়েছিল ওরা। কিন্তু,দেশে করোনার আবির্ভাব ও লকডাউনের দ্বৈত জাঁতাকালে বিদ্ধ হল তাঁদের এবছরের কেদার-বদ্রী ট্রেকিং পরিকল্পনা। তার জেরে ভ্রমণপিপাসু এই যুবকরা সাময়িক দুঃখ পেলেও ভেঙে পড়তে নারাজ। শুরু হল অন্য লড়াই। আর সেই লড়াই মানুষের স্বার্থে,সমাজের স্বার্থে। সারাবছর ধরে জমানো টাকায় ‘সপ্তর্ষি’র পক্ষ থেকে আমতার প্রায় বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ১০০ টি দুঃস্থ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। এই ভ্রমণ গ্রুপের অন্যতম সদস্য সুমন মান্না জানান,”সোমবার সকালে তাঁদের পক্ষ থেকে চাল,আলু,ডাল,তেল,লবণ তুলে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত , করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতার জেরে চিন ও নেপাল, দু’দিক থেকেই এভারেস্ট অভিযান বন্ধ হয়েছে এই বছর। করোনাভাইরাসকে ইতিমধ্যেই বিশ্বজোড়া মহামারী বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পৃথিবীর ১০০টিরও বেশি দেশজুড়ে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত এই ভাইরাসের সংক্রমণে হওয়া কোভিড ১৯ অসুখে। মারা গিয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। এই অবস্থায় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের নিয়ে অভিযানের আয়োজন করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছিল চিন ও নেপাল।

প্রতিবছরই মার্চ-এপ্রিল মাস থেকে চিনে ও নেপালে হিমালয়ের কোলে ভিড় জমাতে শুরু করেন অভিযাত্রীরা। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে তাঁরা ছুটে আসেন অনিন্দ্যসুন্দর হিমালয়ের শৃঙ্গগুলির টানে। এভারেস্ট তো বটেই, সেই সঙ্গে আরও বহু শৃঙ্গে আয়োজিত হয় অভিযান। এখন করোনাভাইরাসের জেরে যখন বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি হয়েছে, বহু মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে, তখন এমন অবস্থায় দেশ-বিদেশের পর্যটকদের এক জায়গায় জড়ো হওয়া ঠিক হবে না বলেই মনে করছেন সকলে। তো স্বাভাবিকভাবেই কেদার-বদ্রী ট্রেকিং বন্ধ হওয়াও খুব স্বাভাবিক কিন্তু সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে দুই অভিযাত্রীর নয়া কাজ নজর কাড়ার মতো।