মুম্বই: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিসিআই সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স জমানা শেষ হয়েছে বোর্ডে। ২০১৭’র জানুয়ারিতে শীর্ষ আদালত বিসিসিআই-এর প্রশাসনিক কার্যভার গ্রহণের জন্য নিয়োগ করেছিল বিনোদ রাইদের। অবশেষে ৩৩ মাসের দীর্ঘ অধ্যায়ে যবনিকা নামে বুধবার বিসিসিআই-এর বার্ষিক সাধারণ সভার পরেই। সিওএ এখন অতীত। কমিটির সব সদস্যরাই প্রাক্তন। এবার পালা বিনোদ রাইদের নিজেদের পাওনা-গন্ডা বুঝে নেওয়ার।

প্রাথমিকভাবে কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সে চারজন সদস্য ছিলেন। বিনোদ রাই ও ডায়না এডুলজির পাশাপাশি রামচন্দ্র গুহ ও বিক্রম লিমায়ে জায়গা পেয়েছিলেন বিসিসিআই-এর কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সে। রামচন্দ্র গুহ মাত্র চার মাস পরেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। বিক্রম লিমায়ে সাত মাস দায়িত্ব পালন করার পর বিনোদ রাইদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়িত্ব ছেড়ে ছিলেন। পরে শীর্ষ আদালত রবি থোজকে নতুন করে কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সে যোগ করে।

বিনোদ রাইরা ভারতীয় ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাজকর্ম নেহাত স্বেচ্ছাশ্রমে করেননি। তাঁদের জন্য রীতিমতো পারিশ্রমিকের নিদান দেয় শীর্ষ আদালত। সিওএ’র তত্ত্বাবধানেই বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তারা বিনোদ, এডুলজিদের জন্য মাসিক পারিশ্রমিকের পরিমাণ নির্ধারণ করে। সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন মেলে তাতে। দায়িত্ব ছাড়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিসিসিআইকে কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স সদস্যদের তাঁদের পারিশ্রমিক মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।

২০১৭ সালে প্রতিমাসে ১০ লক্ষ টাকা করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয় বিনোদ রাই, ডায়না এডুলজিদের জন্য। ২০১৮ সালে প্রতিমাসের জন্য ১১ লক্ষ টাকা করে পাবেন সিওএ সদস্যরা। ২০১৯ সালে প্রতিমাসে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১২ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ ৩৩ মাসের গোটা মেয়াদে রাই ও এডুলজি সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি পারিশ্রমিক পাবেন।রামচন্দ্র গুহ ও বিক্রমের পারিশ্রমিকের পরিমাণ দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪০ ও ৭০ লক্ষ টাকা।

বিনোদ রাই ও এডুলজি নিজেদের পারিশ্রমিকের প্রসঙ্গে কোনও মতামত ব্যক্ত না করলেও রামচন্দ্র ও লিমায়ে বোর্ডের কাছ থেকে কোনও পারিশ্রমিক নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। গুহ ও লিমায়ের অভিমত, তাঁরা সিওএ’র প্রথম বৈঠকেই জানিয়ে দিয়েছিলেন এই কাজের জন্য বিসিসিআই-এর কাছ থেকে কোনও পারিশ্রমিক নেবেন না তাঁরা। তাই এখন কোনও অর্থ গ্রহণ করার প্রশ্নই ওঠে না।