বুধবার বল হাতে সফল৷ বৃহস্পতিবার ব্যাটেও কি রান পাবেন?

বৃহস্পতিবার স্কুল-কলেজ, অফিস কামাই করতে পারেন শহরবাসী৷ ভাবছেন হঠাৎ এমন কথা কেন বলছি? আরে ভাই কাজের মাঝে ভুলে যাবেন না, বৃহস্পতিবারই যে ব্যাট হাতে ইডেনে নামবেন সচিন তেন্ডুলকর৷ তাই ভাই-ফোঁটাতে যারা অফিস ডুব মেরেছিলেন, তাঁরা আরও একবার অফিস কামাই করার জন্য তৈরি হয়ে যান৷ বৃহস্পতিবার শহরে যে একটাই গন্তব্য, ইডেন গার্ডেন্স৷

বুধবার ইডেনে ফিল্ডিং করতে নামছেন সচিন৷
বুধবার ইডেনে ফিল্ডিং করতে নামছেন সচিন৷

মাস্টার ব্লাস্টারের সম্মানে মঙ্গলবারই টসের জন্য সোনার তৈরি বিশেষ কয়েনের উদ্বোধন করেন সিএবি প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়া৷ বুধবার সকালে অবশ্য সেই কয়েন হাতে ভারতীয় সমর্থকদের মুখে হাসি ফোঁটাতে ব্যর্থ ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি৷ ইডেনে টস জেতা মানেই চোখ বুজে আগে ব্যাট নাও৷ এই মন্ত্র এখন কারোরই অজানা নয়৷ কিন্তু টসে যে হেরেই বসলেন মাহি৷ ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিও প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিতে এক সেকেন্ডের বেশি সময় নেননি ৷ যদিও তখনও পর্যন্ত ভারত অধিনায়ক জানতেন না, এদিনই ব্যাট হাতে আবার নেমে পড়তে হবে বিজয়-শিখরদের৷ কারণ, ইডেনের এই ‘ভার্জিন’ পিচে ক্যারিবিয়ানদের প্রথম ইনিংস স্থায়ী হল চা বিরতির কিছু পর পর্যন্ত৷ প্রথমে সামি-ভুবনেশ্বরের পেস অ্যাটাক ও পরে অশ্বিন-ওঝাদের স্পিনেই কাবু স্যামিরা৷ বাদ যাননি সচিন তেন্ডুলকরও৷ এদিন যারা মাঠে এসেছিলেন তাঁর ব্যাটিং দেখতে, তাঁদের অনেকেরই আফশোস ছিল, ‘ যাঃ, প্রথম দিনে মাঠে আসাটাই বেকার হল! সচিনের ব্যাটই দেখতে পেলাম না!’ সেইসমস্ত দর্শকদের মুখে হাসি ফোঁটাতে সফল ‘বোলার’ সচিন৷ ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক স্যামি আউট হতেই এদিন ধোনি বল তুলে দেন মাস্টার ব্লাস্টারের হাতে৷ অধিনায়ককে একেবারেই নিরাশ করেননি সচিন৷ নিজের প্রথম ওভারেই শিলিংফোর্ডকে এলবিডব্লিউ করে সচিন বুঝিয়ে দেন, বোলার হিসেবেও তিনি ফুরিয়ে যাননি৷ ইডেনের গ্যালারিতে চল্লিশ হাজার দর্শকদের সম্মিলিত শব্দ ব্রহ্মে তখন কান ফেটে যাওয়ার অবস্থা৷ কে বলবে, যে সেঞ্চুরি নয়, উইকেট পেয়েছেন মাস্টার ব্লাস্টার৷

এদিন ভারতীয় বোলারদের মধ্যে নায়ক অবশ্য একজনই৷ তিনি বাংলার পেসার মহম্মদ সামি৷ সকালের দিকে নিজের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না, গেইল-পাওয়েলদের বেশ কয়েকটি শট ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পিছনে বাউন্ডারিও হয়ে যাচ্ছিল৷ কিন্তু অপর প্রান্তে ভুবনেশ্বর কুমার গেইলকে প্যাভিলিয়ানে ফেরাতেই যেন ‘পাওয়ার বুস্টার’ পেলেন সামি৷ মারমুখি পাওয়েলকে আউট করতেই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয় তাঁর৷ স্যামুয়েলস (৬৫) ,রামদিন (৪)-কে নিজের নিঁখুত রিভার্স সুইং-এ প্যাভিলিয়ানে ফেরত পাঠান সামি৷ এমনকী, শেষ ব্যাটসম্যান কটরেলকে বোল্ড করতেই দু’হাত আকাশে তুলে সামি বুঝিয়ে দেন, তিনি শুধু সীমিত ওভারের ক্রিকেট নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও লম্বা রেসের ঘোড়া হতেই এসেছেন৷ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রানের জবাবে, প্রথম দিনের শেষে ভারতের রান বিনা উইকেটে ৩৭৷ মুরলি বিজয় ২১ এবং শিখর ধবন অপরাজিত রয়েছেন ১৬ রানে ৷ দুই ওপেনারকে এখনও পর্যন্ত একবারও সমস্যায় ফেলতে পারেননি শিলিংফোর্ড, কটরেলরা৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার শিখর, বিজয় বা পুজারা নন, তাঁরা আউট হতে যিনি ব্যাট হাতে নামবেন, তাঁকে দেখতে এখন থেকেই প্রহর গুনছেন প্রত্যেক শহরবাসী৷

                                                                                                                          প্রতিবেদন: সিদ্ধার্থ সরকার

মহম্মদ সামির বলে বোল্ড দীনেশ রামদিন৷
মহম্মদ সামির বলে বোল্ড দীনেশ রামদিন৷