তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: গত কয়েক দিন ধরে ‘পঙ্গপালে’র খবরে সরগরম ছিল বাঁকুড়া। করোনা পরিস্থিতিতে বিষ্ণুপুরের লায়েকবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের লখ্যাশোল শালবাগানে এই ‘পঙ্গপালে’র উপস্থিতিতে খবরে আতঙ্কিত জেলাবাসীকে আশার কথা শোনালেন প্রাণী বিদ্যার অধ্যাপক থেকে পতঙ্গ বিশেষজ্ঞ সকলেই। ‘বিষ্ণুপুরের জঙ্গলে দেখা পাওয়া বিশেষ প্রজাতির পতঙ্গ, পঙ্গপাল নয়। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’ পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিলেন বাঁকুড়া শহরের সম্মিলনী কলেজের প্রাণী বিদ্যার অধ্যাপক বিশ্বরঞ্জন ধুঁয়া।

তিনি বলেন, এগুলো স্থানীয়ভাবে জন্ম নেওয়া সাধারণ পতঙ্গ শ্রেণীভূক্ত। জঙ্গলের পরিবেশে জন্ম নেওয়া এই পতঙ্গ শ্রেণীর খাদ্যের চাহিদা যদি ওই জঙ্গলের পাতা খেয়ে মিটিয়ে ফেলতে পারে তবে কৃষি জমিতে কখনই আক্রমণ করবেনা। কৃষিক্ষেত্রের ক্ষতি এরা করেছে এধরণের কোনও খবর এখনও নেই। আগে এতো বেশী এই ধরণের পতঙ্গের দেখা মেলেনি। এবছরের আবহাওয়ার কারণে সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে, আগে যা দেখা যায়নি।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কীটনাশক প্রয়োগ করে এই পতঙ্গ মেরে ফেলার কোনও মানে হয়না। এরা জঙ্গলে খাবারের চাহিদা মিটে গেল জঙ্গলেই থাকবে। এরা পতঙ্গভূক পাখিদের ভালো খাদ্যোপদান বলেই জানিয়েছেন তিনি।

একই কথা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র পর্ষদের বাঁকুড়া জেলা কো-অর্ডিনের শৈলেন মাদান। তাঁর কথায়, রাজস্থান-উত্তর প্রদেশে হানা দেওয়া পঙ্গপাল এগুলো নয়। এগুলো বাঁকুড়ায় ‘কালার গঙ্গাফড়িং’ নামেই পরিচিত। ছোটো শুঁড়যুক্ত এই গঙ্গা ফড়িং বাঁকুড়ায় এর আগেও দেখা গেছে। বিহারীনাথ পাহাড় থেকে সোনামুখী সর্বত্রই এর উপস্থিতি রয়েছে।

এই শ্রেণীর পতঙ্গ ভেজা মাটিতে ডিম পাড়ে। এই মুহূর্তে বিষ্ণুপুরের মাটি ভেজা থাকায় বংশবৃদ্ধি হয়েছে। বহিরাগত নয়, এই এলাকাতেই জন্ম এই পতঙ্গের। ফলে অযথা আতঙ্কের কিছু নেই বলেই তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প