অ্যাডিলেড: প্রত্যাশামাফিক প্রথম টেস্টে মধুর জয় দিয়েই অস্ট্রেলিয়া সফর শুরু টিম ইন্ডিয়ার। অজি ভূমে প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার নজির এর আগে ভারতের কোন অধিনায়কের ঝুলিতে নেই। তাই অ্যাডিলেড টেস্ট জয় বিবাহ বার্ষিকীর প্রাক্কালে কোহলির তরফ থেকে স্ত্রী অনুষ্কার জন্য ‘বিরাট’ উপহার।

৩১ রানে দুরন্ত জয়ে মাতোয়ারা ভারতীয় ড্রেসিংরুম। সবাই সংকল্প নিচ্ছেন পরবর্তী পারথ টেস্ট জিতে সিরিজে ব্যবধান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। দলের জয় সেলিব্রেশনের মাঝে একমাত্র কাঁটা ইশান্ত শর্মা। ‘ঐতিহাসিক’ টেস্ট জয়ের পরও নিজের পারফর্ম্যান্সে হতাশ দলের অভিজ্ঞ পেসার ইশান্ত।

আরও পড়ুন: ব্র্যাডম্যানের দেশে দুরন্ত জয় টিম ইন্ডিয়ার

গুরুত্বপূর্ণ টেস্টে তাঁর ধারাবাহিক নো-বল একাধিকবার বিপদ ডেকে এনেছে দলের জন্য। এর মূল্য চোকাতে হতেই পারত ভারতীয় দলকে। কিন্তু বোলিং বিভাগের সম্মিলিত প্রয়াস ঢেকে দিয়েছে ইশান্তের সেই ব্যর্থতা। তবু নিজের পারফর্ম্যান্স নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারছেন না ‘দিল্লি বয়’। তাই ম্যাচ জয়ের পরও দলের মাঝে থেকেও যেন ‘একঘরে’ ইশান্ত।

বিদেশের মাঠে তাঁর দুরন্ত স্পেল আগে একাধিকবার স্বস্তি এনে দিয়েছে ভারতীয় শিবিরে। কুম্বলের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের টেস্ট সিরিজ জয়ে মুখ্য ভূমিকা ছিল তাঁর। বল হাতে ১৬ উইকেট তুলে নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছিলেন তিনি। তাই চলতি অস্ট্রেলিয়া সফরে বল হাতে ইশান্তের থেকে প্রত্যাশী টিম ম্যানেজমেন্ট। অ্যাডিলেড টেস্টের প্রথম ইনিংসের শুরুতেই সেই প্রত্যাশাকে যোগ্য মর্যাদা দিয়েই ফিঞ্চের উইকেট তুলে নিয়েছিলেন বছর তিরিশের এই ল্যাঙ্কি পেসার। প্রথম ইনিংসে এরপরও তাঁর নামের পাশে লেখা হয়েছে দুই উইকেট।

আরও পড়ুন: নির্ধারিত হল বিশ্বকাপ কোয়ার্টারে ভারতের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ

কিন্তু ম্যাচে পাঁচ-পাঁচটি নো-বল যেন কাঁটার মত বিঁধছে এই ভারতীয় পেসারের পারফর্ম্যান্সে। উল্লেখযোগ্যভাবে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে ফের ফিঞ্চকে ফেরালেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইশান্তের ওভারস্টেপিং। তবে মাত্র ১১ রানে অশ্বিন ফিঞ্চকে ফিরিয়ে দেওয়ায় মূল্য বিশেষ চোকাতে হয়নি দিল্লি বয়কে। এমনকি পঞ্চমদিনের দ্বিতীয় সেশনে লায়ন-হ্যাজেলউড যখন ঘুম কেড়েছিল ভারতীয় দলের, তখনও ইশান্তের একটি নো-বল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে দেখা যায় ওভারস্টেপিংয়ের কারণে নিশ্চিত এলবিডব্লুর হাত থেকে বেঁচে যান লায়ন।

সুতরাং, অ্যাডিলেডে টেস্টে ইশান্তের ওভারস্টেপিংই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় দলের কাছে। তাই ম্যাচ শেষে তাঁকে নিয়ে বলতে গিয়ে বিরাট জানান, ‘জয়ের পরও ভীষণ হতাশ ইশান্ত। আমরা সবাই জয় উপভোগ করলেও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষুব্ধ ও।’ কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে প্রত্যুত্তরে ইশান্ত জানান, ‘দলের সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে নো-বল মোটেই কাম্য নয়।’

আরও পড়ুন: ভারতের কোচ হওয়ার দৌড়ে কিংবদন্তি তারকা

তবে ম্যাচ জয়ের পর ইশান্তের এই নেতিবাচক মনোভাবেও ইতিবাচক দিক দেখছেন ভারত অধিনায়ক। বিরাটের মতে, ‘দলের ক্রিকেটাররা পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের খেলার পর্যালোচনা করছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে করা ভুলত্রুটি শুধরে কামব্যাক করতে চাইছে। দেশের হয়ে খেলা একজন ক্রিকেটারের থেকে এর চেয়ে বেশি আর কী প্রত্যাশা করা যেতে পারে? মনে হয় এই মুহূর্তে দলের ক্রিকেটারদের মনোভাব এমনই হওয়া উচিৎ।’