কলকাতাঃ  ভোট প্রচারে গিয়ে বারবার রাজ্যে ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৪২টি আসনেই তৃণমূলের জয়ের দাবি তুলেছিলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, বিজেপি বাংলায় একটা আসনও পাবে না বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু গত ২১ শে মে ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় অভাবনীয় ভাবে বাংলায় বিজেপি ঝড়। এক ধাক্কায় ২ থেকে ১৮টি আসনে পৌঁছে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। রাজ্যে এভাবে বিজেপির বাড়বাড়ন্তে যথেষ্ট চিন্তার ভাঁজ পড়েছে খোদ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে।

একদিকে বাংলায় গেরুয়া শিবিরের উত্থান অন্যদিকে ক্রমশ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের সংখ্যা বাড়ছে। আর সেই তালিকায় শাসকদলের বিধায়ক থেকে সাধারণ নেতা-কর্মীরা তো রয়েছেই।

ইতিমধ্যে বিজেপির হাতে এসেছে ভাটপাড়া পুরসভা। বিজেপির হাতে আসতে চলেছে আরও তিন-তিনটি পুরসভা। ইতিমধ্যে সেই সমস্ত পুরসভার কাউন্সিলররা বিজেপিতে যোগদান করেছে। যদিও মুকুল দায় দাবি করেছেন, শুধু দুই কিংবা তিনটে নয়, আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই বহু পুরসভাই তাঁদের হাতে চলে আসবে। এই অবস্থায় আজ মঙ্গলবার তৃণমূলের থেকে দুটি পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিল বিজেপি। আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত তারকেশ্বর বিধানসভার মধ্যে থাকা দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এদিন সম্পূর্ণভাবে বিজেপির দখলে চলে গেল। এদিন উপস্থিত ছিলেন আরামবাগের বিজেপি নেতা তপন রায়। তাঁর নেতৃত্বেই এদিন এলাকার নেতারা বিজেপি অফিসে আসেন।

টলিউডের অভিনেতা প্রদীপ ধর। ছবি-ইন্টারনেট থেকে

অন্যদিকে এদিন মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন টলিউডের অভিনেতা প্রদীপ ধর। সবার কাছে প্রদীপ ধরের পরিচয় করিয়ে দেন মুকুল রায় নিজেই। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-সহ অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রদীপ। তিনি বলেন, “আমি এখনও পর্যন্ত প্রায় একশোর উপর ছবিতে কাজ করেছি”। সাংবাদিক সম্মেলনে মুকুল রায় রায় জানান, “কয়েক দিনের মধ্যেই টালিগঞ্জে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। টালিগঞ্জের শিল্পীরা কাজ করেও মাসের পর মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। তাঁদের হয়েই লড়াই করবে ওই সংগঠন। তবে এটা বিজেপির কোনও সংগঠন নয়। টালিগঞ্জের কর্মী সংগঠন”।

বাংলায় গেরুয়া ঝড় আছড়ে পড়তেই কার্যত নৌকা টলমল শাসকদল তৃণমূলের। গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার তৃণমূল ভাঙছে বিজেপি। কাউন্সিলর থেকে বিজেপি নেতা-কর্মীদের যোগদান ক্রমশ বাড়ছে বিজেপিতে। যদিও আগেই দিলীপ ঘোষ জানিয়েছিলেন যে, গোটা মাস ধরে বাংলায় বিজেপি যোগদানের উপর বেশি জোর দেবে। আর সেই মতো গোটা বাংলা জুড়ে কার্যত তৃণমূল সহ অন্যান্য দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সশরীরে ছাড়াও মিসড কলের মাধ্যমে বিজেপিতে সদস্য পাওয়া যাচ্ছে। বিজেপির তরফে এই ঘোষণার পরেই মিসড কলের মাধ্যমে বিজেপি সদস্য পদ নেওয়ার সংখ্যাও এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।