স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: আদালতের নির্দেশে ‘খাতায় কলমে’ ২১৭টির মধ্যে ২১১টি পাথর খাদানই বন্ধ৷ কিন্তু বাস্তব বলছে, অধিকাংশ খাদান থেকেই পাথর ও মোরাম তোলার কাজ অব্যহত৷ ফলে আখেরে রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলা প্রশাসন৷ তাই দ্রুত যাতে পাথর খাদানগুলি চালু করার অনুমতি পাওয়া যায় সেবিষয়ে তৎপর হল জেলা প্রশাসন৷

প্রশাসন সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জেলার ‘বন্ধ’ পাথর খাদানগুলির বৈধ অনুমতি আনার জন্য আগামী সোমবার নবান্নে যাচ্ছেন জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। জেলাশাসক পি মোহন গান্ধি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে জেলার বেশিরভাগ খাদান বন্ধ থাকলেও পাথরভাঙ্গা কলগুলি পাথর জোগাড় করে সেগুলি ভাঙছে। রাজস্ব আদায়ে ক্ষতি হচ্ছে৷ তাই খাদান খোলার ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি৷

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, বীরভুমে মাত্র ৬ টি পাথর খাদান বাদে বাকি ২১১ টি খাদানের বৈধ ছাড়পত্র নেই। অথচ কর্মসংস্থানের নামে সেগুলিতে দেদার পাথর উঠছে। তাতে রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। পাথর খাদান নিয়ে তৈরি জেলার বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান তথা জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘জেলাশাসক খাদান চালুর বিষয়ে রাজ্য শিল্প ও বাণিজ্য দফতরে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে খাদানের পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে কলকাতা আদালতে বিচারাধীন মামলার নিস্পত্তির অপেক্ষায় আছি আমরা।’’

যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা এস আর ডি এর চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘‘পুরোপুরি খাদান বন্ধ থাকলে দু লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। আমরা পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জেলা জুড়ে খাদান গুলিকে সরকারিভাবে বৈধ করার চেষ্টা করছি। আমি নিজে কলকাতায় গিয়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেব।’’

স্থানীয় সূত্রের খবর, ‘‘খাতায় কলমে’ সব খাদান বন্ধ থাকলেও কার্যত সেগুলি থেকে দেদার পাথর তোলার কাজ চলছে। গত জুনে বীরভুম সফরে বোলপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে এসে গরিব মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে পাথর শিল্পাঞ্চলের সমস্যা সমাধানে জেলাস্তরে বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাধান সূত্র খুঁজতে সিউড়িতে গত ৬ জুন খাদান ও ক্রাশার মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলাশাসক, জেলাপরিষদের সভাধিপতি, এসআরডিএর চেয়ারম্যান৷ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের রাজ্য শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের সহ সচিব ও ল’অফিসার।

মহম্মদবাজার , শালবাদরা রামপুরহাট, শালবাদরা সহ জেলার বিস্তীর্ন এলাকায় ২১৭টি পাথর খাদান রয়েছে। পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকায় ২১১ টিকে বন্ধের নির্দেশও রয়েছে। সেই বৈঠকেই পাথর শিল্পাঞ্চলে খাদান নিয়ে জমির জট কাটাতে উদ্যোগের কথা জানান হয়। কারণ, অন্যের জমিতে গড়ে ওঠা খাদান গুলিকে নিয়েই সবথেকে বড় সমস্যা। সেক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে মালিকপক্ষকে অগ্রিম টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বৈঠকে। ওই বৈঠক থেকেই বিকাশ রায়চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়৷যদিও কমিটি গঠনের ছ’মাস পরেও খাদান জটিলতা কাটেনি। এদিকে জেলা প্রশাসনের হিসাবে গত ২৯ জুলাই থেকে সব খাদান বন্ধ। কিন্তু খাদান থেকে দেদারে পাথর উঠছে। ফলে আখেরে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রশাসন৷