ভুবনেশ্বর: দিন পনের আগে পুরীতে একসঙ্গে তিনটি ট্রেনে আগুন লেগেছিল। এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়, এর পিছনে জঙ্গিদের হাত রয়েছে। এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্তকে জেরা করে এমনটাই মনে করছে ওড়িশা পুলিশ। তাই ঘটনার তদন্তভার তারা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে চাইছে। পুরীর ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা ‘চার নম্বর’ জানিয়ে ওড়িশার ডিজিপি কে বি সিং বলেন, “ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় আমরা এনআইএ তদন্ত চাইছি। এটা হায়দ্রাবাদ, গয়া এবং খড়্গপুরের মত একই ঘটনা।’’

ট্রেনে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করতে ওড়িশা পুলিশ, জিআরপি এবং আরপিএফ একত্রে তদন্তে নেমেছিল। তদন্তে এখনও পর্যন্ত একজনই গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু এর পিছনে অনেকে রয়েছে বলে সকলেই একমত। যদিও কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। তাই প্রকৃত রহস্যের উন্মোচনে এনআইএ-র সাহায্য চেয়ে ওড়িশার ডিজিপি জানান, এই ধরনের ঘটনার তদন্তে বিশেষভাবে দক্ষ এনআইএ। এনআইএ-র সাহায্য চাইছে ওড়িশা পুলিশ।

জানা গিয়েছে, গত ১২ নভেম্বর পুরী স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি এক্সপ্রেস ট্রেনে একসঙ্গে আগুন লাগে। কেউ হতাহত না হলেও ট্রেনের চারটি বগি একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তদন্তে নেমে জ্বলন্ত ট্রেনের সামনে থেকে রামচন্দ্রন সুবাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আরপিএফ। তামিলনাড়ুর বাসিন্দা বছর সাতাশের রামচন্দ্রনকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, তীর্থস্থানগুলিতে ট্রেনে আগুন লাগানোর পিছনে মুম্বইয়ের পাঁচ জঙ্গির হাত রয়েছে। পুরীতে পরপর তিনটি ট্রেনে আগুন লাগানোর জন্য সে ওই জঙ্গিগোষ্ঠীর থেকে ১ লক্ষ টাকাও নিয়েছে বলে জেরায় জানিয়েছে রামচন্দ্রন। যদিও রামচন্দ্রনের কথার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে পুলিশের। তাই পুরো ঘটনার তদন্তে এনআইএ-র সাহায্য চেয়েছে ওড়িশা পুলিশ।