ডার্বি ম্যাচে মোহনবাগান যে ফুটবল খেলেছিল সেই একই ছবি দেখা গেল বুধবার মহমেডান ম্যাচেও ৷ কোচ করিম বেন শরিফার সেই একই আলট্রা ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজি৷ তফাৎ শুধু মহমেডানের কোনও ডিকা ছিল না এদিন৷ তাই ম্যাচটি ড্র হল৷ শেষ পর্বে অজয় সিং ‘ডিকা’ হয়ে উঠলে এদিনও বাগানের কপালে দুঃখ লেখা ছিল৷ তবে সবুজ-মেরুন শিবির ডার্বির হার থেকে কোনও শিক্ষা নিতে পারেনি তাও এদিন দেখা গেল৷ বুধবার যুবভারতীতে প্রায় সাদা-মাটা ম্যাচে মহমেডানের বিরুদ্ধে গোলশূন্যভাবে শেষ করল করিমের ছেলেরা৷ পয়েন্ট নষ্ট করে হতাশ সবুজ-মেরুন শিবির৷ অন্যদিকে আই লিগের  হাইভোল্টেজ ম্যাচে বাগানের থেকে পয়েন্ট কেড়ে নৈতিক জয় মনে করছে সাদা-কালো শিবির৷ ম্যাচ শেষে মহমেডান শিবির একটাই খুশি, যে ড্রেসিংরুমে টোলগেদের হাতে এক লক্ষ টাকা তুলে দিলেন সাদা-কালো কর্তা ইকবাল আহমেদ৷
ম্যাচে মোহনবাগানও সুযোগ পেয়েছিল গোল করার৷ ম্যাচ শুরুর ছ’মিনিটের মধ্যেই এরিকের দূরপাল্লার দুরন্ত শট দ্বিতীয় পোস্টের গা ঘেঁষে বেরিয়ে যায়৷ শুরুতে ওই গোলটি পেয়ে গেলে মোহনবাগানকে অন্য ছন্দে দেখা যেত মনে হয়৷ কিন্তু সেটা না হওয়াতে সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলে৷ এরপরেই ওডাফা গোল করার একটি সুযোগ পেয়েছিলেন৷ কাটসুমি থেকে বল পেয়ে মেহরাজকে বোকা বানিয়েও বল বাইরে মেরেছেন ওডাফা৷ প্রথমার্ধে আরও একবার গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন বাগানের সেরা স্ট্রাইকারটি৷ ৩৮ মিনিটে দূরপাল্লার উচু শটে গোল করার চেষ্টা করেছিলেন ওডাফা৷ কিন্তু ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে৷ এদিন ওডাফাকে দেখে মনে হয়েছে তিনি ফিট নন৷ দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে মোহনবাগান সমর্থকদের হতাশ করেছেন তিনি৷ বাগানের তুলনায় মহমেডান প্রথমার্ধে অনেক আক্রমণ শানিয়েছে৷ এক সময় আইবরকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি টোলগে৷ পাশাপাশি ইসফাকের দুরন্ত শট কোনওক্রমে বাঁচান সন্দীপ নন্দী৷ ডার্বি ম্যাচে মোহনবাগান রক্ষণ ফুল মার্কস পেয়েছিল৷ এদিন উইলসনের পরিবর্তে ইচে দলে ঢোকেন৷ তবুও বাগানের রক্ষণ বেশ কয়েকবার হতাশ করেছে৷ কখনও টোলগে আবার কখনও জোসিমারের কাছে বোকা বনে গিয়েছেন সৌভিক, আইবররা৷ বিরতির পরেই ফের ওডাফা মেহরাজকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ এরপর টোলগেও গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ৷ ওডাফার মতোই টোলগেও পুরো ম্যাচ ফিট নন৷ ম্যাচে মাঝেমধ্যেই তিনি হতাশ করেছেন৷ কোচ আব্দুল আজিজ টোলগেকে তুলে নিয়ে শেষ পর্বে জোসিমারকে নামান৷

ম্যাচের আগে বিনা টিকিটে মাঠে প্রবেশ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হল বেশকিছু মহমেডান সমর্থক৷ ছবি-সন্দীপ রায় কর্মকার
ম্যাচের আগে বিনা টিকিটে মাঠে প্রবেশ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হল বেশকিছু মহমেডান সমর্থক৷ ছবি-সন্দীপ রায় কর্মকার

এরপর সাদা-কালো শিবির কিছুটা চাঙ্গা হয়ে উঠে৷ তবে দিনের সোনার সুযোগ নষ্ট করেন জেরির পরিবর্তে মাঠে নামা অজয় সিং৷ জোসিমার মারফৎ বল পেয়ে বাইরে মারেন তিনি৷ অজয়ের সহজ মিস দেখে মাথায় হাত দেন কোচ আজিজও৷ এই গোলটি হয়ে গেলে করিমের যাবতীয় পরিকল্পনা বালচাল হয়ে যেতে পারত৷ অজয়ের গোল না হওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে পারেন মোহনবাগান কোচ৷ দ্বিতীয়ার্ধে মণীষ ভার্গবকে তুলে নিয়ে রাম মালিক এবং ডেনসন দেবদাসকে তুলে নিয়ে সাবেথকে নামান করিম৷ কিন্তু রাম মালিকরা লুসিয়ানো, কোলিনের কাছে আটকে গিয়েছেন৷ সবুজ-মেরুন কোচের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি৷ অন্যদিকে এদিন রহিম নবি দীর্ঘদিন পরে মাঠে নামেন৷ যদিও সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি সাদা-কালো ডিফেন্ডারটি৷