প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: নেতাদের অহংকারের কারণেই লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে এমনই মন্তব্য করলেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং তৃণমূলের এসসি-এসটি সেলের সম্পাদক কৃষ্ণ দাস।

রাজ্যের ৪২ টি আসনেই দলীয় প্রার্থীদের জেতানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তা সম্ভব হয়নি। ২২ জন সাংসদ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। অন্যদিকে বাংলায় বিপুল সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। পাঁচ বছরে দুই থেকে সাংসদ সংখ্যা হয়ে দাড়িয়েছে ১৮।

রাজ্যের শাসকদলের ব্যাপক ভোটক্ষয় হয়েছে রাজ্যের উত্তর এবং পশ্চিমের কেন্দ্রগুলিতে। উত্তরবঙ্গের প্রায় সব আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপি। এই অবস্থায় শুক্রবার দলীয় কর্মীদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন জলপাইগুড়ি জেলার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ দাস। দলীয় নেতাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মীদের প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আপনারা সজাগ হোন এবং প্রতিবাদ করুন। পরিষ্কার বলছি যে নেতা মানুষের থেকে দূরে চলে যাবে সেই নেতাকে ধরবেন আর ছুঁড়ে ফেলে দেবেন। তৃণমূলের নেতা কিনা সেটা দেখতে হবে না।”

তৃণমূলে একটাই পোস্ট আর বাকি সব ল্যাম্পোস্ট, রাজ্যের রাজনীতির অন্দরে এই প্রবাদ বিশেষ প্রচলিত। অনেক জায়গাতেই প্রার্থীর হয়ে প্রচারে খোদ দলনেত্রী বলেছেন, “সব কেন্দ্রে আমিই প্রার্থী।” তা সত্ত্বেও দলের ভরাডুবির কারণ হিসেবে কৃষ্ণ বাবু বলেছেন, “দিদি এত কিছু দিয়েছে কেন হার?” প্রশ্নের জবাব তিনিই দিয়েছেন। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, “হারের একটাই কারণ। সেটা হল- নেতাদের অহংকার।”

সেই সকল অহংকারী নেতারা এখন হাতের সোনার আংটি এবং গলার সোনার চেন খুলে ফেলছেন বলে দাবি করেছেন কৃষ্ণ দাস। সেই সকল নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “অনেক নেতা বড় নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে তা ফেসবুকে পোস্ট করে নিজেকে বিক্রি করেছেন। সেই কারণেই ভরাডুবি।” এই অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে তাঁর পরামর্শ, “অন্যকে শাসন কড়ার আগে নিজের লোককে শাসন করা দরকার। অন্যের গায়ের গন্ধ না দেখে নিজের গায়ে গন্ধ আছে নাকি সেটা দেখুন। তাই এখন অপারেশনের পালা, আমাদের জারা তাদেরকে আগে বহিষ্কার কড়তে হবে।”