ইন্দোর: মধ্যপ্রদেশের নাবালিকাদের নিয়ে দেহব্যবসার আসল চিত্রটা দেখলে যে কোনও সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ শিউরে উঠবে। তাদের বাড়বাড়ন্তের জন্য হরমোন ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে। তার পর সেই নাবালিকাকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে দেহ ব্যবসায়। যে সমস্ত কিশোরী এই ইঞ্জেকশনের ডোজ সহ্য করতে পারছে না, তারা পাচার হয়ে যাচ্ছে এমন জায়গায় যাদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রকাশ্যে উঠে এল এই মর্মান্তিক চিত্র।

সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে এরকমই একটি কুখ্যাত গ্যাংস্টারদের হাত থেকে পালিয়ে বেঁচেছে ১৫ বছরের এক কিশোরী। সেই পুলিশের সামনে তুলে ধরেছে দেহব্যবসার এই মর্মান্তিক চিত্র। পুলিশকে ওই কিশোরী জানিয়েছে, গত ছ’ বছর ধরে তাকে নিয়মিত হরমোন ইঞ্জেকশন দেওয়া হত। পরে তাকে জোর করে দেহব্যবসায় নামানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর শাজাপুর থেকে মাত্র নয় বছর বয়সে ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। ১২ বছর বয়সে ওই কিশোরীকে মুম্বইয়ের একটি পানশালায় নাচতে হত। তার উপর সপ্তাহে দু’দিন করে গোয়া বা দিল্লিতে যেতে হত গ্রাহকদের মনোরঞ্জনের জন্য, পুলিশকে জানিয়েছে সে।

পুলিশ সূত্রে খবর, নাবালিকাদের নিয়ে এই দেহব্যবসায় জড়িয়ে রয়েছে যে গ্যাং, তাদের মূল নেতার নাম সোনিয়া। পুলিশের কাছে ওই কিশোরী যা জানিয়েছে সেই অনুযায়ী, সোনিয়ার দখলে আরও প্রায় ৫০ জন নাবালিকা রয়েছে।

নিজের স্বীকারোক্তিতে নিগৃহীতা কিশোরী জানিয়েছে, ‘ লাল রঙের ওই ইঞ্জেকশন নিতে খুব কষ্ট হত। খুব ব্যথা করত। দিনে দু’বার করে ওই ইঞ্জেকশন নিতে হত। না নিতে চাইলে ওরা খুব মারত।’

ওই কিশোরী আরও জানিয়েছে, ‘একবার আমি ওদের জিজ্ঞেস করেছিলাম এটা কী ইঞ্জেকশন, তার উত্তরে ওরা আমাকে লোহার রড দিয়ে পেটায়। আমার গোটা শরীরে ছুঁচ ফুটিয়ে দেয়।’