নয়াদিল্লি: এক সময় তাঁর বাবা ভেবেছিলেন ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার হবে৷ বাবার ইচ্ছে পূরণে ডাক্তারি পড়াও শুরু করেন তিনি৷ কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই আগ্রহ হারিয়ে পড়া ছাড়েন তিনি৷ এর পর ঝোঁকেন অর্থনীতির দিকে৷ সেই পথেই জাতীয় রাজনীতিতে স্বীকৃতি পান মনমোহন সিং৷
মনমোহন-কন্যা দামান সিংয়ের লেখা ‘স্ট্রিক্টলি পারসোনাল: মনমোহন অ্যান্ড গুরশরণ’-এর  দু’মলাটে এমনই সব অজানা তথ্য তুলে ধরলেন তিনি৷ এই বইতে মনমোহন সিং ও তাঁ স্ত্রী গুরশরণ কউরের দাম্পত্য জীবনের নানা কথা থাকলেও, মনমোহনের প্রধানমন্ত্রিত্বের ১০ বছর নিয়ে বিশেষ কিছু উল্লেখ করা হয়নি৷
বাবার প্রথম জীবন সম্পর্কে তিনি লেখেন,  প্রি-মেডিকেলের পড়া ভালো না লাগায় কিছুদিন বাবার দোকানে কাজ করেছিলেন মনমোহন। কিন্তু সেখানেও মন  বসেনি। আবার পড়াশোনায় ফেরেন। বেছে নেন অর্থনীতিকে৷ ১৯৪৮ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী৷ সেখানেই অর্থনীতির প্রতি ভালোবাসা জন্মায় তাঁর৷ কেন ডাক্তারি ছেড়ে অর্থনীতির দিকে ঝুঁকলেন তিনি? এর উত্তরও বাতলেছেন দামান৷  তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করত তাঁকে। একটা দেশ কেন দরিদ্র থাকে, কেন কোনও দেশ ধনী হয়, এসব বিষয়ে ভাবতেন তিনি৷ এমন সময় তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁর এই প্রশ্নের যাবতীয় উত্তর তিনি খুঁজে পাবেন অর্থনীতিতে৷ এর পরই অর্থনীতিতে মনোনিবেশ করেন মনমোহন সিং৷ পরবর্তীকালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বেশ অর্থকষ্টে ভুগতেন হয়েছিল তাঁকে। সে সময় পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি বাবদ যা পেতেন তা দিয়ে কেমব্রিজের খরচ চলত না৷ অতিকষ্টেই কেমব্রিজের পড়া শেষ করতে হয় তাঁকে৷
দামান আরও বলেন, মনমোহনের চরিত্রের একটি মজার দিক হল, তিনি তাঁর পরিচিতদের ডাকনাম দেন। তিনি নিজের এক ভাইয়ের নাম দিয়েছেন ‘জন বাবু’৷ আরেকজনের নাম ‘জুয়েল বাবু’। মনমোহন নিজের স্ত্রীকে আদর করে ডাকেন ‘গুরুদেব’। আর তিন কন্যার আদরের নাম ‘কিক’, ‘লিটল রাম’ এবং ‘লিটল নোয়া’৷