সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : অনেকে বলছেন আমপান। কিন্তু এ আম যে ‘আম’ নয়। মিষ্টি তো নয়ই। ফলে হাওয়ায় উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে পান। একের পর বরজ শেষ। যার উপর ভরসা করে গ্রাম বাংলার হাজার হাজার মানুষের পেট চলে সেই পানকে কার্যত মজাসে ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছে আমফান। এই ফান-এ খোরাক খুঁজে পাচ্ছে না ‘আম আদমি’ পান চাষী।

পাট কাঠির বরজে বেড়ে ওঠে পান। যে কেউ ঢুকতে পারে না পান বরজে। সূর্য তেজ থেকে দূরে থাকা পানকে বে আব্রু করে দিয়েছে বিদেশি আমপান। রোষে তছনছ করে দিয়েছে পানকে। বরজের পর বরজ পান প্রাণ হারিয়েছে। চোখের জল মোছা ছাড়া উপায় নেই মানুষের।

ক্ষতিগ্রস্ত দেগঙ্গার কয়েকহাজার পান চাষীরা বলছেন লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়, ক্যানিং, বাসন্তী, গোসাবা, ঝড়খালী-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পালং, ক্যাপসিকাম, লঙ্কা প্রচুর পরিমাণে চাষ হয়। সঙ্গে পানের বরজ আছে। আমফানের তাণ্ডবে ওইসব ব্লক এলাকার অধিকাংশ পান বরজ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এখন কী হবে। এই প্রশ্ন করার মত শক্তিও নেই সবহারা চাষিদের।

একই অবস্থা হাওড়ার। শহরাঞ্চল ছেড়ে একটু বেরোলেই দেখা মেলে একের পর এক পান বরোজের। সে সব কিছুই নেই। তাণ্ডব চালিয়েছে আমফান। বিধ্বংসী ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতি হয়ে গিয়েছে হাওড়ার পুরনো ঐতিহ্যবাহী ও বর্তমানে ধুঁকতে থাকা পান চাষের।

চাষীরা বলছেন, ‘এই আমফান বাংলার কোমর ভেঙে দিয়ে মিলিয়ে গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সেজে দাঁড়িয়ে আছে হাওড়া জেলা সহ বাংলার একাধিক জেলা।’ গাছের পর গাছ পড়ে, বাড়ির পর বাড়ি ভেঙে – লাশের ওপরে লাশ শুয়ে সে জানিয়ে গিয়েছে সর্বশক্তিমান প্রকৃতির সাবধানবানী। রাজ্যের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে এই ঝড়। সঙ্গে ক্ষতি করে দিয়েছে হাওড়ার গ্রামীণ এলাকার লুপ্ত হতে চলা, ক্রমশ ধুঁকতে থাকা পুরনো – পানচাষকে। জেলা জুড়ে কাতারে কাতারে প্রাচীন সভ্যতার জেগে ওঠা ধ্বংসস্তূপের মতো শুয়ে পড়েছে পান বরোজ।

প্রসঙ্গত যখনই বৃষ্টি হয় পানের বরোজের ক্ষতি হয়। কিন্তু সে ক্ষতি সামলাতে পান চাষীরা ফি বছর অভ্যস্ত। কিন্তু আমফানের মতো সুপার সাইক্লোনের রেকর্ড বাংলায় গত ৩০০ বছরে তিনটে। ভারতেও যে রোজ রোজ হয় তা নয়। ১৯৯৯এর পর ২০২০। পরিসংখ্যানই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে আর কি উঠে দাঁড়াতে পারবে এই পানের বরজ। দাঁড়ালেও কতটা?

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প