গান্ধীনগর: ফের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করে তিন তালাক। ঘটনা এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইলেও সেই বার্তা কিন্তু সরাসরি স্ত্রী-র কাছে দেয়নি স্বামী। নিজের বাবার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ করে নিজের চার বছরের দাম্পত্য ভাঙতে চেয়েছিল সে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি গুজরাতের বালসাদ জেলার সঞ্জন এলাকার। অভিযুক্ত ওই স্বামীর নাম জৈলুন জাভেদ কালিয়া। চার বছর আগে তার বিয়ে হয় বালসাদেরই উমারগাম গ্রামের এক মহিলার। তাদের তিন বছরের এক পুত্র সন্তানও আছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৭ বছরের অভিযুক্ত পাত্র কর্মসূত্রে বিদেশে থাকে। পারিবারিক অশান্তির কারণে বাপের বাড়িতে থাকছিলেন অভিযোগকারী মহিলা। তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে মা-বাবার কাছেই থাকতেন ২৫ বছরের অভিযোগকারী। তিন তালাক প্রথা বাতিল হওয়ার কারণে এই ধরনের অঘটন তিনি আশঙ্কা করতে পারেননি।

কিন্তু তাল কাটল গত রবিবার। স্বামী তার থেকে বিচ্ছেদ চাইছেন সেটি তিনি জানতে পারেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মারফত। কারণ বিদেশে থাকা স্বামী নিজের বাবা জাভেদ কালিয়ার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ করে তাকে তালাক দিয়েছে। ওই মহিলার শ্বশুর সেই হোয়াটসঅ্যাাপ বার্তা প্রিন্ট আউট করিয়ে ইমামের কাছে গেছিল নিয়ম মেনে ছেলে এবং পুত্রবধূর বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন করতে।

সেই ইমামই ওই মহিলাকে তলব করে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ইমামের কাছে গিয়েছিলেন তালাকপ্রাপ্ত মহিলা। বিষয়টি জানার পরেই উমারগাম থানায় স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানিয়েছেন ওই থানার ইনস্পেক্টর পিএম পারমার।

এই তালাকের পিছনে সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন ওই মহিলা। সেই বয়ান অনুসারে, অভিযুক্ত জৈলুনের এক বোন আছে। যার আট বছর আগে বিয়ে হলেও কোনও সন্তান হয়নি। সে জৈলুনের স্ত্রী গর্ভে জন্মানো পুত্র সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে চায়। একই মত পরিবারের বাকি সদস্যদেরও। কিন্তু জৈলুনের স্ত্রী তাতে রাজি না হওয়াতেই শুরু হয় বিবাদ। সেই কারণেই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে তিনি বাপের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।

ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে জৈলুনের বাবা জাভেদ এবং মা নাফিসাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় রুজু করা হয়েছে মামলা। যে ইমামের কাছে জাভেদ গিয়েছিল সেই ইমামকে আটক করা হলেও গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন উমারগাম থানার ইনস্পেক্টর পিএম পারমার।