প্রতীতি ঘোষ, বারাসত : গোটা দেশ তথা রাজ্য জুড়ে করোনা সংক্রমণের রেশ ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা তবুও হুঁশ নেই আমজনতার। ফলে রীতিমতো বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টা থেকে কন্টেনমেন্ট জোনে নতুন করে শুরু হচ্ছে কড়াকড়ি লকডাউন।

এদিকে নতুন করে লকডাউনের নির্দেশিকা জারি হতেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সদর শহর বারাসত পুরসভা এলাকায় লকডাউন কার্যকর করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। দিনভোর বারাসত শহর জুড়ে চলছে পুলিশের মাইকিং। বারাসত শহরের করোনা প্রভাবিত অঞ্চল গুলিকে কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করে সেই অঞ্চল গুলি বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে ঘিরে দিয়েছে প্রশাসন।

কন্টেনমেন্ট জোন এলাকার বাসিন্দারা যাতে জরুরি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই জন্য বারাসাত পুরসভার পক্ষ থেকে কন্টেনমেন্ট জোন এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে পুরসভা।

বারাসত পুরসভার বর্ধিত কন্টেনমেন্ট জোনগুলি হল ১৩, ১৪,১৫,১৬,১৮,২৫ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড। সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে এই ওয়ার্ড গুলিকে কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ওই সমস্ত এলাকার বাসিন্দাদের মাইকিং করে করোনা সচেতনতার প্রচার শুরু করেছে প্রশাসন।

এছাড়াও সমস্ত কন্টেনমেন্ট জোন এলাকায় শীঘ্রই স্যানিটাইজ করে দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বারাসাত পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য অশনি মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও যে সমস্ত এলাকায় প্রশাসন ব্যারিকেড করে ঘিরে দিয়েছে, সেই এলাকার কেউ যাতে বাইরে না বেরোন সেই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

নাগরিকদের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যে কোন মূল্যে করোনাকে রুখতে বদ্ধ পরিকর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনকে মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মেনেই কিভাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে করোনা প্রভাবিত অঞ্চলে লক ডাউন কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হল এক প্রশাসনিক বৈঠক।

কোন ভাবেই করোনা আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। বর্তমানে জেলা সদর বারাসাত মহকুমায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। এই মহকুমা অন্তর্গত হাবড়া পৌর অঞ্চলে বর্তমানে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুসারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ জন, এদের মধ্যে ১৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে নতুন করে যাতে কেউ আর করোনা আক্রান্ত না হয়, সেজন্য কন্টেনমেন্ট অঞ্চল গুলিতে কঠোর ভাবে লক ডাউন পালনের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ