স্টাফ রিপোর্টার , বর্ধমান: আলাদা আলাদা করে স্বাস্থ্যমেলা কিংবা ট্যুরিজম মেলা নয়। এবার কেরালার মডেলে বর্ধমানে হেল্থ ট্যুরিজম মেলা করার চিন্তাভাবনা শুরু করল জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার থেকে বর্ধমান টাউন হলে শুরু হয়েছে স্বাস্থ্য মেলা -২০২০। মেলা চলবে ২ জানুয়ারী পর্যন্ত। এদিন মেলার উদ্বোধন করেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক বিজয় ভারতী। হাজির ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (স্বাস্থ্য) রজত নন্দা, বর্ধমান জেলাপরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বাগবুল ইসলাম, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্যাধিকারিক ডা. প্রণব রায়, মেলার মূল আয়োজক বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্ণধার সেখ আল্লাবাজউদ্দিন প্রমুখরাও।

জেলাশাসক জানিয়েছেন, ‘রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে বর্ধমান জেলার একটি আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। এই জেলায় তথা বর্ধমান শহরে প্রচুর সংখ্যক নার্সিংহোম, ডাক্তারখানা রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আর পাঁচটা মেলার মত স্বাস্থ্যমেলারও একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেহেতু বর্তমান সময়কালে সাধারণ মানুষ নানাবিধ রোগে ভোগেন। তাই মেলার মাধ্যমে তাঁদের কাছে চিকিত্সা পরিষেবা পৌঁছে দিতে পারলে তা ভালই।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেরালায় চালু হয়েছে হেল্থ ট্যুরিজম। বেড়াতে যাবার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষা।’ তিনি জানিয়েছেন, ‘অনেক রাজ্যেই আলাদা আলাদা করে এলাকা চিহ্নিত করণ করা হয়। কোথাও এডুকেশন সিটি আবার কোথাও হেল্থ সিটি। তেমনি বর্ধমান শহরকে ঘিরেও এই ধরণের চিন্তাভাবনা তাঁরা করছেন।’

সম্প্রতি বর্ধমানে অনুষ্ঠিত হল ট্যুরিজম মেলা। আবার এখন হচ্ছে স্বাস্থ্য মেলা। আগামী তিনি তাই তাঁরা চাইছেন এদুটি মেলাকে একত্র করে হেল্থ ট্যুরিজম মেলা করতে। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রথম ধাপ হিসাবে নিজের মানসিকতাকে আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানান জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বাগবুল ইসলাম।

তিনি জানান, ‘কেবলমাত্র নিজের বাড়িটুকু পরিষ্কার করাই নয়। অনেকেই বাড়ির ময়লা আবর্জনা রাস্তার ধারে ফেলে দেন। কিন্তু তাঁরা ভেবেও দেখেন না বাড়ির বাইরে জমা আবর্জনা থেকেও নানাবিধ রোগ তাঁর বাড়িতে ঢুকতে পারে। তাই সবার আগে নিজের মানষিকতাকে প্রসারিত করা দরকার। বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির আশপাশের এলাকাও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হলে অনেক রোগেরই প্রাদুর্ভাব কমবে বলে তিনি জানিয়েছেন।’

একইসঙ্গে এদিন বাগবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘রাজ্য সরকারের নির্দেশে গোটা জেলা জুড়েই শুরু হয়েছে সুস্বাস্থ্য দিবস। প্রত্যেকটি ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশাপাশি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেও মাসে একবার ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ প্রভৃতি রোগেরও চিকিত্সা করা হচ্ছে। তিনি জানান, একটা সময় ছিল যখন কুষ্ঠ, যক্ষ্মা প্রভৃতি দূরারোগ্য রোগ নির্মূল করার জন্য প্রচার চালাতে হত। এখন এই সব রোগ অনেকটাই দূরীভূত হয়েছে। তাই সরকারীভাবে এখন ডায়াবেটিস, হাই ব্রাড প্রেসার প্রভৃতি রোগ সম্পর্কেও সরকারী হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প