কলকাতা: ভেজাল চানাচুর কারখানার হদিশ মিলল কলকাতায়৷ এর আগে শহরে ভেজাল বেসনের কারবারের হদিশ পেয়েছিল ইবি৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে , বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিশের ইবি শহরে অভিযান চালায়৷ এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের গোয়েন্দারা (ইবি) শহরে তিনটি ভেজাল চানাচুর তৈরির কারখানার হদিশ পান৷

এর আগে চিত্‍পুরে হদিশ মিলেছিল ভেজাল বেসনের কারবারের৷ সেই সময় একজনকে গ্রেফতার করা হয়৷ অতীশ সাউ নামে ওই ব্যবসায়ীকে জেরা করেই ভেজাল চানাচুর কারখানার হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের৷

ইবি-র অফিসাররা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শহরে হানা দিয়ে প্রচুর পরিমাণে নিম্নমানের বাদাম,তেল ও রং বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ ওইগুলি চানাচুর তৈরি করতে ব্যবহৃত হত৷ আর সেই চানাচুর প্যাকেটবন্দি হয়ে চলে যেত বিভিন্ন দোকানে৷ সেখান থেকে মানুষের ঘরে ঘরে৷ নামী কোম্পানির লোগো ব্যবহার করে রমরমিয়ে চলছিল ভেজাল মধু, পুদিনা তৈরির কারবার। জাল মোড়কে ভেজাল কসমেটিক বিক্রির কারবারও চলছিল রমরমিয়ে।

গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির ওই কারখানায় হানা দেয় পুলিশ ও জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্মীরা। উদ্ধার হয় নামী কোম্পানির মোড়কে ভরা ভেজাল মধু, পুদিনা সস ও কসমেটিক সামগ্রী। কয়েক মাস ধরে মেমারির চেকপোস্ট এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন দেবু নামে এক যুবক।

ওই যুবক গোপনে সেই ঘরে এই ভেজাল কারবার চালাচ্ছিলো বলে অভিযোগ। ওই ঘরেই নামী সংস্থার মোড়কে ভেজাল মধু, পুদিনা সস বোতল-ভরতি ভরা হত। এছাড়াও নামী ব্র্যান্ডের মোড়কে ভেজাল কসমেটিক সামগ্রীও করা হত প্যাকেটবন্দি। পরে সেই সামগ্রী এখান থেকেই সরবরাহ চলত বিভিন্ন জায়গায়।

গোপন সূত্রে এই জাল কারবারের খবর পায় মেমারি থানার পুলিশ ও জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্মীদের একটি দল আচমকা হানা দেয় মেমারির চেকপোস্ট এলাকার ওই বাড়িতে। পুলিশ আসার আগেই এলাকা ছেড়ে পালায় জাল কারবারের মূল পান্ডা দেবু। পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু ভেজাল মধু, পুদিনা সস বাজেয়াপ্ত করেছে। একইসঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ভেজাল কসমেটিক দ্রব্য তৈরির কাঁচামাল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, বাজেয়াপ্ত দ্রব্যের বাজার মূল্য আনুমানিক কয়েক লক্ষ টাকা।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV