বৃহস্পতিবার ইডেনে চার উইকেট নিলেন শিলিংফোর্ড৷

উত্তর প্রদেশের বিরুদ্ধে সফরের একমাত্র  প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার দু’দিন আগে যখন সল্টলেকের ভিডিওকন ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে অনুশীলন করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল, তখন নেটে বল হাতে এই ক্যারিবিয়ান স্পিনারকে প্রথমে দেখে স্থানীয় নেট বোলারদের সঙ্গে তাঁর তেমন কোনও তফাৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না৷ মাঠে ওইদিন প্র্যাকটিস দেখতে আসা প্রত্যেক মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শুধুই ক্রিস গেইল৷ তিনি বাদে কলকাতাবাসীর দ্বিতীয় ‘চয়েস’ অবশ্যই নাইট রাইডার্সের বিস্ময় বোলার সুনীল নারিন৷ সচিনের বিদায়ী টেস্ট সিরিজ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে তিনি নেই কেন? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই সকলের মনে৷ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডিয়া ম্যানেজার যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য শিলিংফোর্ডকে নিয়ে এসে যখন পরিচয় করালেন৷ তখনও সবার মুখে একটাই প্রশ্ন ছিল ‘এ আবার কে’? কিন্তু বৃহস্পতিবার ইডেনে লাঞ্চের আগে যে বলটা করলেন ডমিনিকার স্পিনারটি, তাতে সুনীল নারিনকে কেন এই সিরিজে দলে নেওয়া হল না, সেই প্রশ্নের সম্মুখীন অন্তত বেশ কিছুদিন হতে হবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক এবং কোচকে৷ রোহিত-অশ্বিন জুটি ভারতকে আবার লড়াইয়ে না ফেরালে, বৃহস্পতিবারই ইডেন টেস্টে ক্যারিবিয়ানরা যে চালকের আসনে চলে যেত, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই৷

বিজয়কে ফিরিয়ে উল্লাস শিলিংফোর্ডের৷
বিজয়কে ফিরিয়ে উল্লাস শিলিংফোর্ডের৷

এদিন সকালে ভারতীয় ওপেনার শিখর ধবনকে বোল্ড করেই শিলিংফোর্ড বুঝিয়ে দেন শুধু ‘অর্থডক্স’ অফ স্পিনই নয়, তাঁর হাতে রয়েছে স্পিনের অনেক মিশ্রণ৷ কিছুদিন আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক স্পিনার বীরস্বামী পেরমল আক্ষেপ করছিলেন, ‘দুসরা’ এখনও আয়ত্ত হয়নি তাঁর৷ শিলিংফোর্ডের হাতেও ‘দুসরা’ নেই৷ কিন্তু তাঁর আসল অস্ত্র ‘টপ স্পিন’৷ আর তাতেই কুপোকাৎ বিজয়, শিখর, কোহলিরা ৷ লাঞ্চের আগেই ভারতের টপ অর্ডারকে তছনছ করে দিয়ে গেলেন ডমিনিকার এই ছ’ফুট চার ইঞ্চির স্পিনারটি৷ ভারত প্রথম ইনিংসে লিড নিতে সফল হলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে তাঁদের নতুন স্পিন অস্ত্র পেয়ে গিয়েছে৷ তা অধিনায়ক স্যামির মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যথেষ্ট৷