শিলিগুড়ি: শুক্রবার থেকেই এনজেপি থেকে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনে ছুটবে দার্জিলিং মেল। শুক্রবার রাতে দার্জিলিং মেল ছেড়ে শিয়ালদহে পৌঁছোবে শনিবার সকালে। দার্জিলিং মেলের পাশাপাশি আরও তিনটি ট্রেন চালানো হবে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনে। সেগুলি হল এনজেপি–‌হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস, এনজেপি–‌হাওড়া সাপ্তাহিক এসি এক্সপ্রেস এবং এনজেপি–‌মালদহ প্যাসেঞ্জার। আপাতত তিনটি ট্রেন দিয়ে শুরু হলেও পরে আরও ট্রেনে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন লাগানোর ভাবনা রয়েছে রেলমন্ত্রকের।

উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলের মুকুটে নয়া পালক। এবার বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনে ছুটবে দার্জিলিং মেল। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের সমুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শুভানন চন্দ জানান, ইলেকট্রিক ট্রেনের ক্ষেত্রেও পুরোন টাইম টেবিলই থাকছে। আপাতত ট্রেন চলাচলের সময়ের কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না।

শুক্রবার এনজেপি স্টেশন থেকে দার্জিলিং মেল ছেড়ে যাওয়ার পর শনিবার এনজেপি স্টেশন থেকে ছাড়বে শতাব্দী এক্সপ্রেস, ও এনজেপি–মালদহ প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি। আগামী ১৫ জানুয়ারি এনজেপি–হাওড়া সাপ্তাহিক এসি এক্সপ্রেসটি চলবে। রেলের সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার (‌ইলেকট্রিক)‌ উৎপল দত্ত বলেন, ‘‌ইলেকট্রিক ইঞ্জিনে ট্রেন চালানোর দাবি শিলিগুড়ির বাসিন্দাদের বহুদিনের। তাঁদের বহুদিনের দাবি এবার পূরণ হতে চলেছে।’

এনজেপি থেকে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু হলে জ্বালানি তেলের খরচ কমবে রেলের। একইসঙ্গে পরিবেশ দূষণও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। রেল মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত কাটিহার ও শিয়ালদহ থেকে চালকদের দিয়ে ইলেকট্রিক ট্রেনগুলি চালানো হবে। ধীরে ধীরে উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলের চালক ও গার্ডদের বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর গুঞ্জরিয়া–এনজেপি স্টেশন পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ইলেকট্রিক ইঞ্জিনের ট্রায়াল রান হয়। সফলভাবে ট্রায়াল রান হওয়ায় আশায় বুক বাঁধতে থাকেন রেলমন্ত্রকের কর্তারা। তবে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে রেলের তরফএই বেশ কিছু তখনও বাকি ছিল। কয়েকমাসের মধ্যেই সেই সব কাজ দ্রুততার সঙ্গে করে ফেলেন রেলের ইঞ্জিনায়র-সহ অন্য কর্মীরা। তারপরই এনজেপি থেকে শিয়ালদহ বৈদ্যুতিক ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেয় রেলমন্ত্রক।