শ্রীনগর: কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে মোদী সরকার। তারপর থেকেই অব্যাহত রয়েছে কাশ্মীরে জঙ্গি দমন অভিযান। প্রায় নিত্যদিন চলছে এনকাউন্টার।

জম্মু কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বুধবার সকালে বারামুল্লার বোমাইতে এক জঙ্গির দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র এবং বিস্ফোরক।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ওই এলাকায় এনকাউন্টার শুরু করে জওয়ানেরা। ওই রাজ্যের পুলিশ এবং সেনা জওয়ানদের যৌথ উদ্যগে শুরু হয় এনকাউন্টার। যা গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সপোরে জেলার বোমাইয়ের ওয়াডুরা পাইন এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। সঙ্গে সেনাবাহিনীর জয়ানেরাও ছিলেন। জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়েই সেই অভিযান শুরু হয়। বিকেল পাঁচটা নাগাদ শুরু হয় সেই অভিযান। মিনিট ২৫ পরে আচমকা জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে জঙ্গিরা।

পুলিশের দাবি, বিপদ বুঝতে পেরেই বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছিল জংগ্লে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে পালটা জবাব দিতে শুরু করে সেনা জওয়ানেরা। শুদু হয়ে যায় দুই পক্ষের গুলির লড়াই। এনকাউন্টারের জন্য প্রস্তুত ছিল বাহিনী। সেই কারণে ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই জয় হাসিল করা গিয়েছে। বুধবার ভোরের দিকে শেষ হয়েছে এনকাউন্টার। এক জঙ্গির দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে আরও কয়েকজন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেই সকল দেহ জঙ্গিরা সরিয়ে ফেলেছে।

চলতি বছরে কাশ্মীরে জঙ্গি দমন অভিযানে বিশেষ সাফল্য পেয়েছে বাহিনী। সূত্র জানাচ্ছে, ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে ১০৩ সন্ত্রাসবাদীকে নিকেশ করে নিরাপত্তা বাহিনী৷ উল্লেখ্য, গতবছর কাশ্মীরে ২৫৪ জন জঙ্গিকে খতম করা হয়৷ মোদী সরকার শুরু থেকেই কাশ্মীরে আলোচনার চেয়ে জঙ্গি নিধনেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল৷ সেই নীতি দ্বিতীয় ইনিংসেও বজায় রাখতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার৷

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কাশ্মীরের ১০ জঙ্গির তালিকা প্রকাশ করে৷ কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ ও আইবি’র দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন এই তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ এই ১০ জনের মধ্যে ছ’জন হিজবুল মুজাহিদিনের, দু’জন জইশের, লস্কর ও আল বদরের একজন করে৷ উপত্যকায় কাজ করা এই জঙ্গিদের দ্রুত নিকেশ করতে চায় কেন্দ্র৷ তাই কাশ্মীরে জঙ্গি দমন অভিযান যেমন চলছে তেমনই চলবে বলে সেনাকে জানায় কেন্দ্রীয় সরকার৷

সন্ত্রাসবাদের পর সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্খনও কাশ্মীরের পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলার জন্য দায়ী৷ ৬ জুন পর্যন্ত পাকিস্তান ১১৭০ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে৷ গতবছর এই সময়কাল পর্যন্ত সংখ্যাটা ছিল ১৬২৯৷ অর্থাৎ এখনও অবধি সংখ্যাটা কম৷ কিছুদিন আগে কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের সঙ্গে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি চালিয়ে যেতে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷